সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে। রবিবার (২৫ মে) ট্রাইব্যুনাল এক আদেশে নির্দেশ দিয়েছে, তাকে ব্যাখ্যা দিতে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য আগামী সাত দিনের মধ্যে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। একইসঙ্গে আরেকজনের বিরুদ্ধেও একই বিজ্ঞপ্তি প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি’—এই বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আদালত অবমাননার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। প্রসিকিউটরদের ভাষায়, মন্তব্যটি সরাসরি বিচারিক প্রক্রিয়া ও বিচারককেন্দ্রিক দায়িত্ববোধের প্রতি চরম অবমাননা এবং এই ধরনের বক্তব্য বিচারের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এদিনই জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ছয়জন নাগরিক হত্যার অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিবসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ হয় ২১ এপ্রিল এবং ট্রাইব্যুনাল সেই তদন্তপত্র পর্যালোচনা শেষে বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হচ্ছে।
এ মামলায় যেসব পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের মধ্যে চারজন—ইন্সপেক্টর আরশাদ, কনস্টেবল মো. সুজন, কনস্টেবল ইমাজ হোসেন ইমন ও কনস্টেবল নাসিরুল ইসলাম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। পলাতক আসামির তালিকায় রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা জোনের সাবেক এডিসি শাহ আলম মো. আকতারুল ইসলাম এবং এসি মো. ইমরুল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ মামলার গতি ও গুরুত্ব ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আলোড়ন দেখা দিয়েছে, তেমনি সাবেক সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশনা আসায় বিষয়টি ঘনীভূত রাজনৈতিক সংকেত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বিচারিক প্রক্রিয়া শুধুমাত্র আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং রাজনৈতিক বাস্তবতায় এর প্রতিক্রিয়া ও অভিঘাত দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র ও সরকারের কাঠামোতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিরূপণ করা কঠিন। তবে এটি পরিষ্কার—বিচারের রূপরেখা এখন পাল্টেছে। বিচার এখন কেবল ইতিহাস নয়, বরং চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।