রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

আছে গবাদি পশু পালনের বিশাল মাঠ, নেই বেচাকেনার হাট

নূরুল আলম কামাল, নেত্রকোনা: নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলা একটি হাওয়ার বেষ্টিত এলাকা। এ অঞ্চলে রয়েছে খাল বিল নদী নালা ও ছোট বড় অসংখ্য হাওর। চাষাবাদের জমিসহ বিশাল বিশাল পতিত মাঠ রয়েছে। এসব মাঠে প্রাকৃতিক ঘাস খেয়ে স্থানীয় কৃষকদের গরু, মহিষসহ গৃহপালিত পশু বেড়ে ওঠে। ওই পশু হাওরাঞ্চল সহ দেশের আমিষের চাহিদা পূরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। তবে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৩ মে ২০২৫, ২০:৫৩

নূরুল আলম কামাল, নেত্রকোনা:

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলা একটি হাওয়ার বেষ্টিত এলাকা। এ অঞ্চলে রয়েছে খাল বিল নদী নালা ও ছোট বড় অসংখ্য হাওর। চাষাবাদের জমিসহ বিশাল বিশাল পতিত মাঠ রয়েছে। এসব মাঠে প্রাকৃতিক ঘাস খেয়ে স্থানীয় কৃষকদের গরু, মহিষসহ গৃহপালিত পশু বেড়ে ওঠে। ওই পশু হাওরাঞ্চল সহ দেশের আমিষের চাহিদা পূরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।

তবে এসব গবাদি পশু বিক্রির জন্য নেই কোন হাট। ঝুঁকি নিয়ে অন্য উপজেলা ও জেলাতে গবাদি পশু বিক্রির জন্য যেতে হয়। উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এলাকায় পশু বিক্রির হাট স্থাপন। 

খালিয়াজুরী কৃষি ও প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, ২৯ হাজার ৭৬৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ উপজেলায় ৬৮ টি গ্রামের ৫৪ ওয়ার্ডের ২০ হাজার ১৯৩ টি পরিবারের মধ্যে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৫৯৬ হেক্টর জমির মধ্যে ২০ হাজার ২৯৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করা হয়।

আর অবশিষ্ট ৮ হাজার ৩০৩ হেক্টর জমির প্রায় অর্ধেক রবিশস্য চাষাবাদ করা হয়। অনাবাদী প্রায় ৪ হাজার হেক্টর পতিত জমিতে গরু, মহিষ সহ গবাদি পশু লালন পালন করা হয়। 

উপজেলার যে সব হাওরে গবাদি পশু ঘাসের জন্য উপযোগী। মেন্দিপুর ইউনিয়নের নাওটানা ও চাতলপাড়, পূর্ব জগন্নাথপুর, চাকুয়া ইউনিয়নের চাকুয়া, হারাকান্দি, বল্লী ও শালদিগা, খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর, খালিয়াজুরী, গচিকাই, গাজীপুর ইউনিয়নের গাজীপুর, পাচহাট, নগর ইউনিয়নের নগর, বাঘাটিয়া ও কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর পূর্বা, মুসলিমপুর, কল্যাণপুর ও কুতুবপুর হাওর উল্লেখ যোগ্য।

এসব হাওর গুলোতে পৌষ মাস থেকে বৈশাখ ও জৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত রাখালরা দলবদ্ধভাবে গরু, মহিষ ও অন্যান্য গবাদি পশু লালন পালন করে থাকে। সকাল আটটা থেকে রাখালরা গরু নিয়ে মাঠে চলে যায়। সারাদিন ঘাস খাওয়ানোর পর সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফিরে আসে। এভাবেই চলতে থাকে নিয়মিত রাখালদের গবাদি পশু পালন কাজ। 

খালিয়াজুরী উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার কৃষক পরিবারের মধ্যে প্রত্যেক পরিবারেই গরু, মহিষ সহ অন্যান্য গবাদি পশু লালন পালন করা হয়। উপজেলায় ৫২ হাজার ২৯৫ গরু, সাড়ে ৩ হাজার ছাগল, ৪ হাজার ২২৫ ভেড়া, ৩৮৫ মহিষ, ২ লাখ ৯৫ হাজার হাঁস, ২ লাখ ২০ হাজার ৫৮৪ মুরগি রয়েছে। 

রাখাল সুলাইমান ও মামুন মিয়া বলেন, আমরা গরু পালন করি। কেনাবেচার কোন হাট না থাকায় জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গবাদি পশু কেনাবেচা করতে হয়। এতে করে খুবই কষ্ট হয়। সরকার আমাদের এলাকায় একটা পশুর হাট করে দিলে ভাল হয়।

উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের মোঃ রিপন মিয়া, সবুজ মিয়া, চাকোয়া ইউনিয়নের আবুল কাশেম, খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নের মোহাম্মদ রাসেল মিয়া, গাজীপুর ইউনিয়নের মাসুদ মিয়া, মামুন মিয়া, নগর ইউনিয়নের হারাধন দাস ও কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আব্দুল জব্বার মিয়া বলেন, আমরা প্রত্যেক কৃষকেই জমি চাষাবাদ, মাছ ও গবাদি পশু লালন পালন করে পরিবারের বছরের খরচ মিটানো হয়।

গবাদি পশু কেনাবেচার কোন হাট নেই। উপজেলার বাহিরে মোহনগঞ্জ উপজেলার আদর্শ নগর, মদন উপজেলার দেওয়ান বাজার, কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং সহ অন্যান্য বাজার থেকে গরু বেচাকেনা করতে হয়। এটা এলাকার কৃষকদের জন্য খুবই কষ্টকর।

খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও গাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রব স্বাধীন, সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান কেষ্ট ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মোঃ ইসমাইল হোসেন জানায়, উপজেলা গবাদি পশু বেচাকেনার হাট খুবই জরুরী। বিক্রির হাট থাকলে কৃষকগণ এলাকায় গরু কেনাবেচা করতে পারবে।

এতে সরকার হাট ইজারার মাধ্যমে রাজস্ব পাবে। এ জন্য তারা ইউএনওর মাধ্যমে গরু বেচাকেনার হাটের অনুমতির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এলাকা বিবেচনায় গবাদি পশু বিক্রির হাট অনুমোদন দেয়া দরকার। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলা গরু বিক্রির হাট জরুরী প্রয়োজন। গরু কেনাবেচার হাট থাকলে কৃষকের কষ্ট লাগব হবে। 

খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভাস্কর তালুকদার জনান, উপজেলায় প্রায় প্রত্যেক কৃষক পরিবারই গবাদি পশু লালন পালন করেন। এগুলো বিক্রির জন্য কোন হাট নেই। উপজেলার সমতল এলাকায় হাট স্থাপন করলে কৃষকদের ভোগান্তি লাগব হতো। 

উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উজ্জল হোসেন বলেন, উপজেলার জনগণের পক্ষ থেকে গরু বিক্রির হাটের জন্য সাংবাদিক মোঃ আবুল কালাম আজাদ আবেদন করেছেন। আবেদনটি ডিসি স্যারের কাছে পাঠিয়েছি। 

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস বলেন, গবাদি পশু বিক্রির জন্য হাট স্থাপনে একটি আবেদন পেয়েছি। তবে হাটের জন্য স্থানীয়দের জমি দান করতে হয়। হাট স্থাপনের জন্য কেহ যদি জায়গা জমি দিতে পারে সেক্ষেত্রে বাজার স্থাপন করা সম্ভব হবে।

এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কুরবানীর জন্য অস্থায়ী কিছু হাটের ব্যবস্থা করার জন্য। প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই হাটগুলো ইজারার ব্যবস্থা করা হবে। 

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।