মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

রাষ্ট্র গঠন ও সংস্কারের এক যুগান্তকারী দৃষ্টিভঙ্গি

রাষ্ট্র হলো একটি যন্ত্র যা আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি জাতির সামগ্রিক অধিকার সংরক্ষণ ও শৃঙ্খলা রক্ষা করে, জাতির উন্নয়নে কাজ করে। দীর্ঘদিনের বিবর্তনের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে নানা শক্তি ও উপাদান ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে হতে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে। রাষ্ট্রের উৎপত্তিতে অবদান রেখেছে কিছু উপাদান, যেমন ধর্মীয় বন্ধন, সংস্কৃতির বন্ধন, রক্তের […]

নিউজ ডেস্ক

১৬ জানুয়ারী ২০২৫, ২১:৪৮

রাষ্ট্র হলো একটি যন্ত্র যা আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি জাতির সামগ্রিক অধিকার সংরক্ষণ ও শৃঙ্খলা রক্ষা করে, জাতির উন্নয়নে কাজ করে। দীর্ঘদিনের বিবর্তনের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে নানা শক্তি ও উপাদান ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে হতে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে। রাষ্ট্রের উৎপত্তিতে অবদান রেখেছে কিছু উপাদান, যেমন ধর্মীয় বন্ধন, সংস্কৃতির বন্ধন, রক্তের বন্ধন, যুদ্ধবিগ্রহ, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চেতনা ও কার্যকলাপ।

আইন প্রণয়ন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের মৌলিক কাজ। রাষ্ট্রীয় আইনসভা বা পার্লামেন্টের মাধ্যমে আইন প্রণীত হয়, আর দেশের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্ট প্রভৃতি বিচারালয়ের মাধ্যমে দেশের সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

তবে, যখন রাষ্ট্রযন্ত্রের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়, তখন রাষ্ট্রের কাঠামো দুর্বল হতে শুরু করে এবং মানুষ আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত হয়। তখনই শুরু হয় বিশৃঙ্খলা, অশান্তি ও অরাজকতা। রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে সাধারণ জনগণ পর্যন্ত এর কুফল ভোগ করতে থাকে, এবং কেউই এর থেকে মুক্ত থাকতে পারে না। তাই আমাদের সকলকেই রাষ্ট্রের কাঠামো সংরক্ষণ ও সংস্কারের জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের রাষ্ট্র কাঠামো অনেকটা ভেঙে পড়েছে, তাই সংস্কারের বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এই সংস্কারের ক্ষেত্রে আমাদের রাষ্ট্র গঠনের মৌলিক কাঠামোগুলোর দিকে খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। এসব মৌলিক কাঠামো দুর্বল হলে রাষ্ট্রও দুর্বল হয়ে পড়ে।

রাষ্ট্র গঠনের মৌলিক কাঠামো কী কী হতে পারে এবং কী ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন, তা মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাঁর সার্বজনীন সংবিধান, পবিত্র কুরআনে, আগে থেকেই লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বাণীতে বলেছেন, إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ إِنَّ اللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُمْ بِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا (সুরা নিসা, আয়াত: ৫৮)

অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে আদেশ করেছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তাদের হকদারদের আদায় করে দিবে, আর যখন মানুষদের মধ্যে বিচার করবে, তখন ইনসাফ বা ন্যায় বিচারের সাথে বিচার করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে যে বিষয়ে উপদেশ দিয়ে থাকেন, তা অত্যন্ত উৎকৃষ্ট। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সর্বশ্রোতা এবং সর্বদ্রষ্টা।

এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা রাষ্ট্র গঠনের মৌলিক কিছু উপাদান উল্লেখ করেছেন। যেগুলো যথাযথ সংরক্ষণে একটি রাষ্ট্র উন্নতির উচ্চ শিখরে পৌঁছাতে পারে, আবার এই উপাদানগুলো হারালে রাষ্ট্র বিশৃঙ্খলা ও অশান্তির অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে পারে।

এ আয়াতের প্রথম নির্দেশনা হলো ‘আমানতদারিতা’, যা একটি সফল রাষ্ট্র গঠনের প্রথম উপাদান। যখন একটি রাষ্ট্রে আমানতদারিতার অভাব দেখা দেয়, তখন রাষ্ট্র সার্বিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রের সব স্তরে ওয়ার্ড কাউন্সিল থেকে শুরু করে সচিবালয় পর্যন্ত আমানতদারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামি খিলাফতের সময় শান্তি ও সমৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ ছিল খলিফাদের আমানতদারিতা। ৯৯ হিজরিতে ইসলামের প্রসিদ্ধ খলিফা, ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহ.খলিফার দায়িত্ব গ্রহণের পর, একান্ত কামরায় বসে আছেন আর তার চক্ষু বেয়ে পানি ঝরছে । তাঁর স্ত্রী ফাতিমা বিনতে আব্দুল মালিক তাঁকে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেছিলেন, ‘আমি রাষ্ট্রের খলিফা নিযুক্ত হয়েছি, তাই আমি আমার রাষ্ট্রের অধীনস্থ অসহায়, দরিদ্র, ক্ষুধার্ত, বস্ত্রহীন, বৃদ্ধ, অনাথদের কথা ভাবছি, কেননা কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তাদের ব্যাপারে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন’।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. হতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই একজন জিম্মাদার (দায়িত্বশীল), এবং প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জাতির ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান) একজন জিম্মাদার, তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পরিবারগুলোর কর্তা, তাদের অধীনস্থদের ব্যাপারে জিম্মাদার, এবং এমনকি একজন খাদেমও তার মালিকের সম্পদের জিম্মাদার হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে’। (সহিহ বুখারী ও মুসলিম)

এছাড়া, সহিহ ইবনে হাব্বান-এ বর্ণিত হয়েছে, রসুলুল্লাহ সা. বলেছেন,‘কিয়ামতের দিন তোমাদের প্রত্যেককে তার দেওয়া দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, সে কি সেটা যথাযথ পালন করেছে, না তা নষ্ট করেছে। এমনকি পরিবারগুলোর অভিভাবকদের তাদের পরিবারস্থ ব্যক্তিদের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে’।

অতএব, রাষ্ট্রের প্রতিটি দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে এবং আমানতদার হয়, তবে একটি রাষ্ট্র অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে ও সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারে।

এ জন্য আমাদের রাষ্ট্র গঠন ও সংস্কারের ক্ষেত্রে আমানতদারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ও উন্নতির মূল চাবিকাঠি।

লেখক: নাজমুল আরিফীন বিন মুহাম্মদ
শিক্ষার্থী: আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো মিশর

ইসলাম ও জীবন

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত। কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় […]

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

নিউজ ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত।

কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় রাত। আর হাদিসে একে উল্লেখ করা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ হিসেবে।

শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“শাবান মাসের অর্ধ রজনীতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)

অষ্টম শতাব্দীর প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) এই হাদিসের সব বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে জানা যায়, শবে বরাতের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ সময় সিজদায় মগ্ন ছিলেন। পরে তিনি বলেন,
“এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন।”
(শুআবুল ইমান)

শবে বরাতে ইবাদত ও রোজার গুরুত্ব
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
“১৪ শাবানের রাত তোমরা ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করো এবং পরদিন রোজা রাখো।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৮)

হাদিস বিশারদদের মতে, ফজিলতের ক্ষেত্রে এই হাদিস গ্রহণযোগ্য।

ভাগ্য নির্ধারণের রাত
পবিত্র কোরআনে সুরা দুখানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“এই বরকতময় রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।”
(সুরা দুখান: ২–৩)

তাফসিরকারদের একাংশের মতে, এখানে শবে বরাতের কথাই বোঝানো হয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
“অর্ধ শাবানের রাতে সব ফয়সালা নির্ধারিত হয়, আর শবে কদরে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়।”

হাদিসে আরও এসেছে—এই রাতে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, রিজিক ও আমলনামা নির্ধারণ করা হয়।

করণীয় কী?

শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি—

  • তসবিহ-তাহলিল
  • ইসতিগফার
  • দরুদ শরিফ
  • কোরআন তেলাওয়াত
  • নফল ও কাজা নামাজ
  • দোয়া ও মুনাজাত
  • কবর জিয়ারত
  • করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার
শবে বরাত কোনো বিদআত নয়; বরং কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

লেখক:
মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ

ইসলাম ও জীবন

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। শবে […]

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩০

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত।

শবে বরাত উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করছেন।

লাইলাতুল বরাত পালন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মাগরিবের নামাজের আগ থেকেই বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিরা জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শেষে শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ এশা আবারও ধর্মীয় আলোচনা শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের কল্যাণ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা হয়।

মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা জানান, তারা নিজেদের গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া করেছেন।

এই পবিত্র রাতে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে আজ সারারাত ইবাদতের পরিবেশ বিরাজ করছে।

ইসলাম ও জীবন

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)। লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে […]

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

নিউজ ডেস্ক

০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:২৪

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)।

লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে চান। এর আগে সেন্ট্রাল সি তার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে জনসমক্ষে খুব একটা কথা বলেননি।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করলেও ২০২১ সালের দিকে সেন্ট্রাল সি ইউকে র‍্যাপ জগতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম ব্রিটিশ র‍্যাপার হিসেবে একটি একক প্ল্যাটফর্মে এক বিলিয়ন স্ট্রিম অর্জনের রেকর্ড রয়েছে তার। ড্রেক (Drake) এবং জে. কোল (J. Cole)-এর মতো বিশ্বসেরা তারকাদের সাথে কাজ করে তিনি গত কয়েক বছরে সাফল্যের তুঙ্গে রয়েছেন।

নিজের দ্রুত উত্থান সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সবকিছু এতো দ্রুত ঘটছে যে মাঝে মাঝে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যায়। আমি এতোদিন ধরে এতো দ্রুত দৌড়াচ্ছি যে এসব নিয়ে ভাবার সময়টুকুও পাইনি।

পেশাদার জীবনের এই ব্যস্ততার মাঝে তার এই ব্যক্তিগত এবং আধ্যাত্মিক পরিবর্তন ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তার অনুসারীরা তাকে শুভকামনা জানাচ্ছেন। মুসলিম কমিউনিটির পক্ষ থেকে তার এই সিদ্ধান্তকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন