সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

জিব্রাইল আ. -এর দায়িত্ব ও কাজ কী?

আমাদের ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কোরআন ও হাদিসে ফেরেশতাদের অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে। তারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে অন্যতম একটি শ্রেণি, যারা আল্লাহর আদেশ পালন করে এবং মানবজাতির জন্য নানা ধরনের দায়িত্ব পালন করে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফেরেশতা হলেন জিব্রাইল আ.। আজকে আমরা তাঁর সম্পর্কে কিছু জানব। ইনশাআল্লাহ। জিব্রাইল আ. কে?জিব্রাইল আ. হলেন আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় এবং সম্মানিত […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ জানুয়ারী ২০২৫, ১৯:৪৮

আমাদের ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কোরআন ও হাদিসে ফেরেশতাদের অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে। তারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে অন্যতম একটি শ্রেণি, যারা আল্লাহর আদেশ পালন করে এবং মানবজাতির জন্য নানা ধরনের দায়িত্ব পালন করে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফেরেশতা হলেন জিব্রাইল আ.। আজকে আমরা তাঁর সম্পর্কে কিছু জানব। ইনশাআল্লাহ।

জিব্রাইল আ. কে?
জিব্রাইল আ. হলেন আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় এবং সম্মানিত ফেরেশতা, যিনি আল্লাহর নির্দেশে নবীদের কাছে তাঁর বার্তা পৌঁছানোর কাজ করেন। তিনি একজন মহান ফিরিশতা, যাঁকে কোরআনে ‘রুহুল আমিন’ (বিশ্বস্ত আত্মা) নামে অভিহিত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে সর্বদা সর্বশ্রেষ্ঠ মাকসুদ হিসেবে পাঠিয়ে থাকেন। আল্লাহ যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বা বিধান মানবজাতির জন্য পাঠাতে চান, তখন জিব্রাইল আ. সেই বার্তা নবীদের কাছে পৌঁছান।

জিব্রাইল আ. দায়িত্ব ও কাজ
জিব্রাইল আ. শুধু নবীদের কাছে আল্লাহর বার্তা পৌঁছানোর কাজ করেন না, তিনি আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তার মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব হলো-

নবী-রাসুলদের কাছে ওহী পৌঁছানো: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল, তিনি আল্লাহর তরফ থেকে নবীদের কাছে ওহী (বার্তা) পৌঁছান। উদাহরণস্বরূপ, কোরআনের আয়াত ও হাদিসগুলো জিব্রাইল আ.-এর মাধ্যমে নবী মুহাম্মদ সা. পর্যন্ত পৌঁছেছে।

আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়ন: তিনি আল্লাহর অন্যান্য আদেশও বাস্তবায়ন করেন, যেমন কোনো জাতির জন্য শাস্তি নির্ধারণ করা বা আল্লাহর দয়া পৌঁছানো।

নবী মুহাম্মদ সা.-এর সহায়তা: জিব্রাইল আ. নবী মুহাম্মদ সা.-কে বিভিন্ন সময় সহায়তা করেছেন, যেমন হেরা গুহায় যখন প্রথম ওহী নাযিল হয়, তখন তিনি সাহস ও শক্তি দিয়ে নবীজিকে উদ্বুদ্ধ করেন।

জিব্রাইল আ. গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
যখন নবী মুহাম্মদ সা. হেরা গুহায় আধ্যাত্মিক চিন্তা-ভাবনায় লিপ্ত ছিলেন, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রথম ওহী নিয়ে জিব্রাইল আ. হাজির হন এবং তাঁকে ‘ইকরা’ (পড়ো) বলেছিলেন। এই ঘটনা ইসলামিক ইতিহাসের একটি মহান মুহূর্ত হিসেবে স্মরণ করা হয়।

নবী মুহাম্মদ সা.-এর যাত্রায়, যেখানে তিনি আকাশে উর্ধ্বগমন করেন, জিব্রাইল আ. তাঁর সঙ্গে ছিলেন এবং তাকে আল্লাহর কাছ থেকে হিদায়াত ও নির্দেশনা প্রদান করেন।

জিব্রাইল আ. শুধুমাত্র একজন ফেরেশতা নয়, তিনি আল্লাহর সেরা দূত, যিনি বারবার তাঁর কার্যক্রমের মাধ্যমে মানবজাতির জন্য আল্লাহর হিদায়াত ও দয়া পৌঁছানোর কাজ করেছেন। তাঁর এই মহান ভূমিকা ও দায়িত্ব আমাদের জীবন ও ধর্মীয় অনুশাসনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।

আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিন, যাতে আমরা তাঁর নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারি এবং সঠিক পথ অবলম্বন করতে পারি।

ইসলাম ও জীবন

মিসরে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়ী চ্যাম্পিয়ন হাফেজ আনাসকে বিমানবন্দরে সংবর্ধনা

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া […]

নিউজ ডেস্ক

১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৪:৫২

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে ছাদখোলা বাসে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাকে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও বিশ্বজয়ী এই হাফেজকে এক নজর দেখার জন্য রাজপথে ভিড় করেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হাফেজ আনাস বলেন, আমরা যে দেশের ক্বারীদের তিলাওয়াত শুনে কেরাত শিখি, সেই দেশের প্রতিযোগিতায় বিজয় অর্জন করা আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের। কেরাতের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মিসরে গিয়ে প্রথম হওয়া সহজ ছিল না। তবে আমার ওস্তাদ, মা–বাবা এবং দেশবাসীর দোয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে।

হাফেজ আনাসের ওস্তাদ শায়খ নেছার আহমদ আন নাছিরী বলেন, তৃতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয় করেছে আমার ছাত্র। কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ৭০টি দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম স্থান অর্জন করে সে সবাইকে চমকে দিয়েছে।

তিনি জানান, গত ৭ ডিসেম্বর কায়রোতে চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত জাতীয় বাছাইপর্বে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে হাফেজ আনাস আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

প্রসঙ্গত, হাফেজ আনাস রাজধানীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ছাত্র। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া গ্রামে। এর আগেও তিনি সৌদি আরব ও লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন।