মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

বানিজ্য

সৌদিকে বারবার ফিরিয়ে দিয়েছে হাসিনা সরকার

সম্প্রতি সাবেক পতিত শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের আরামকোর বিনিয়োগ আটকে দেওয়ার অভিযোগ আসে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আরামকোর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে উপকূলে একটি তেল শোধনাগার স্থাপনের প্রস্তাব দিলেও, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কিছু কর্মকর্তার স্বার্থপর মনোভাবের কারণে তাদের প্রস্তাব কার্যকর হয়নি। সরকার বারবার বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবতার সঙ্গে […]

নিউজ ডেস্ক

১০ জানুয়ারী ২০২৫, ১১:৫৭

সম্প্রতি সাবেক পতিত শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের আরামকোর বিনিয়োগ আটকে দেওয়ার অভিযোগ আসে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আরামকোর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে উপকূলে একটি তেল শোধনাগার স্থাপনের প্রস্তাব দিলেও, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কিছু কর্মকর্তার স্বার্থপর মনোভাবের কারণে তাদের প্রস্তাব কার্যকর হয়নি।

সরকার বারবার বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবতার সঙ্গে তা মেলেনি। বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও আরামকোর প্রতিনিধি দল সঠিক সহযোগিতা পাননি। এই অদক্ষতা ও নীতিগত ত্রুটি শুধু সৌদি বিনিয়োগই নয়, অন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও নিরুৎসাহিত করেছে। ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য তৎকালীন সরকারের সঠিক নীতিমালা ও জবাবদিহিতার অভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ইসা ইউসুফ ইসা আল দুহাইলান বলেছেন, সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকো বাংলাদেশে বিশাল অংকের বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে তিনবার বাংলাদেশে এসেছে। তবে আরামকো এখনো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।৫ জানুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাষ্ট্রদূত এই মন্তব্য করেন।

প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল বিনিয়োগ-বান্ধব বাংলাদেশ, কিন্তু বাস্তবে নয়
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছি যে আমাদের দেশ বিনিয়োগ-বান্ধব। কিন্তু সবসময় তা সত্য নয়। বর্তমান সরকার পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা সহজ করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন যে সৌদি বিনিয়োগকারীরা এখন বাংলাদেশে এলে আগের চেয়ে ভালো পরিবেশ দেখতে পাবেন।

রাষ্ট্রদূত ইসা আল দুহাইলান বলেন, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আরামকোর একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল তিনবার বাংলাদেশে এসেছিল। কিন্তু কেউ তাদের গ্রহণ করেনি। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের দপ্তর, সচিব এবং কর্মকর্তাদের কাছে ঘুরতে ঘুরতে তারা সমস্যায় পড়েছিল। কারণ, তখন কিছু মানুষ শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ দেখেছিল। তবে আমরা অতীত নিয়ে কথা বলব না, আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলব।

বানিজ্য

নগদে বিনিয়োগে আগ্রহী জামায়াত এমপি আরমান, অডিটের অনুমতি চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান সমস্যায় থাকা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান নগদে নতুন বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য বিনিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ও সার্বিক অবস্থা যাচাই করতে ফরেনসিক অডিটের অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি দিয়েছেন তিনি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন […]

নগদে বিনিয়োগে আগ্রহী জামায়াত এমপি আরমান, অডিটের অনুমতি চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি

নগদে বিনিয়োগে আগ্রহী জামায়াত এমপি আরমান, অডিটের অনুমতি চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি

নিউজ ডেস্ক

২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:২৭

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান সমস্যায় থাকা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান নগদে নতুন বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য বিনিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ও সার্বিক অবস্থা যাচাই করতে ফরেনসিক অডিটের অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি দিয়েছেন তিনি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে পাঠানো ওই চিঠিতে নগদের বর্তমান অবস্থান মূল্যায়নের জন্য অডিট পরিচালনার সুযোগ চাওয়া হয়। বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

প্রয়াত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে আরমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রায় আট বছর গুম ছিলেন। ২০১৬ সালে মিরপুর থেকে অপহৃত হন এবং ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট— শেখ হাসিনা সরকারের পতনের একদিন পর মুক্তি পান তিনি। যুক্তরাজ্যে আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া এই আইনজীবী কথিত ‘আয়নাঘর’-এ আটক থাকা ব্যক্তিদের একজন ছিলেন।

সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, ‘বিনিয়োগে সহায়তা করা নাগরিক দায়িত্বের অংশ। দেশি-বিদেশি বহুজাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন এবং তারা সম্ভাব্য বিনিয়োগের আগে নগদের অডিট করতে চায়।’

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, উদীয়মান প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বৈশ্বিক আর্থিক খাতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের আগ্রহ রয়েছে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পে কয়েকজন বিদেশি বিনিয়োগকারী এতে আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকা নগদকে যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে নতুন মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তরের পরিকল্পনার কথা তিনি জেনেছেন। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক, পরিচালনাগত সক্ষমতা, ঝুঁকি, শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, নগদ নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত কোনোটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার মতো নয়। অন্তর্বর্তী সরকার নগদকে আবার বেসরকারি খাতে ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল, তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নতুন সরকার। নগদ বর্তমানে সরকারের মালিকানাধীন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কেবল এটি পরিচালনা করছে।

২০১৯ সালে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের আর্থিক সেবা হিসেবে যাত্রা শুরু করা নগদ এখনও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অস্থায়ী লাইসেন্সে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংক সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া ফরেনসিক অডিটর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে আগের ব্যবস্থাপনার সময়ে প্রায় ২,৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের প্রাথমিক প্রমাণ পায়।