সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

নতুন বছরে বুটেক্স শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা 

মোঃ আলী মোর্তজা, বুটেক্স প্রতিনিধি  নতুন বছর মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা, নতুন চ্যালেঞ্জ। অস্থিরতা ও পরিবর্তনের বছর ছিল ২০২৪। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসহ নানা ঘটনাবহুল বছরটিকে বিদায় জানিয়ে নতুন এক বছরে পা রেখেছে শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) শিক্ষার্থীরাও এই নতুন বছরে নিজেদের প্রত্যাশা পুরণের সাথে সাথে নিজের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে প্রস্তুত। বুটেক্সের তরুণ প্রজন্মের […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ জানুয়ারী ২০২৫, ১২:০৮

মোঃ আলী মোর্তজা, বুটেক্স প্রতিনিধি 
নতুন বছর মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা, নতুন চ্যালেঞ্জ। অস্থিরতা ও পরিবর্তনের বছর ছিল ২০২৪। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসহ নানা ঘটনাবহুল বছরটিকে বিদায় জানিয়ে নতুন এক বছরে পা রেখেছে শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) শিক্ষার্থীরাও এই নতুন বছরে নিজেদের প্রত্যাশা পুরণের সাথে সাথে নিজের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে প্রস্তুত।
বুটেক্সের তরুণ প্রজন্মের মনে নতুন বছরের সঙ্গে নতুন স্বপ্নের সঞ্চার হয়েছে। তারা নিজেদের ক্ষমতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে চায়। টেক্সটাইল শিল্পকে আরও উন্নত করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায় এই তরুণ প্রজন্ম।
বুটেক্সের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে আমারা জানতে পেরেছি নতুন বছরে তাদের প্রত্যাশার কথা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোঃ সাগর হোসেন বলেন, ২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের পরে দেশের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় গুলো যেনো তার নতুন সজীবতা ফিরে পেয়েছে নতুন উদ্যমে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)-ও এর বাইরে নয়। এবং একজন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রথম চাওয়া, বুটেক্স পরিপূর্ণ রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে  বিরাজমান থাকবে। হলের মান উন্নয়ন, ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধিকরণ, খাবারের মান উন্নয়ন কারাসহ নানা কাজ করা হবে। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ এই দিকগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করবেন। নতুন একটি হল করার প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে আমাদের, প্রত্যাশা করি তা যেনো নির্দিষ্ট সময়ে সেটা বাস্তবায়িত হয়।
এছাড়া, হলগুলোতে শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশ বজায় থাকুক এবং ছাত্র শিক্ষকের যে মিলবন্ধন তা অটুট থাকুক। সামনের বছরে আমাদের ৪৬তম ব্যাচের বিদায়ে ২০২৪ এর মতো ফেস্ট উদযাপিত হবার প্রত্যাশা রাখি। তাছাড়া সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাস চাই। ৪৬ তম ব্যাচ হিসেবে আমরা ইতোমধ্যে ৫ বছর ধরে অধ্যয়নরত বুটেক্স ক্যাম্পাসে। আমাদের এইচএসসি সেশনের (২০১৯-২০) বন্ধুবান্ধব অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের স্নাতক সম্পন্ন করেছে অথবা প্রায় শেষের পথে। আমাদের যেনো দ্রুতসময়ে স্নাতক শেষ করার ব্যবস্থা করা হয় সে ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দৃষ্টি আশা করতেছি। সর্বশেষে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটুক ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে। সার্বিক নিরাপত্তায়, বহিরাগতদের যেনো ক্যাম্পাস ও হলে প্রবেশ করতে দেওয়া না হয়। সর্বোপরি বুটেক্স একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস হোক আমাদের জন্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং  বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আশরাফুল হক রাইহান বলেন, আমার স্বপ্নের বুটেক্স হবে এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে জ্ঞানের গভীরতা, নৈতিক মূল্যবোধ, এবং ভবিষ্যতের প্রস্তুতি মিলেমিশে এক নতুন পথ তৈরি করবে। এজন্য নিজের ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক প্রসূত কিছু প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করতে পারি যা বাস্তবায়ন করলে হয়তোবা নতুন বছরের বুটেক্স সবার স্বপ্নের বুটেক্স হতেও পারে:
১। গবেষণার শক্ত ভিত্তি প্রতিস্থাপন: বুটেক্সকে তার গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে হবে। উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা, এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে গবেষণাকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে। টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের গবেষণা হবে বিশ্বমানের।
২। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ ২.০ এর অনন্য পরিচিতি প্রতিষ্ঠা: বুটেক্সকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিত করতে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব ও গবেষণা বিনিময়ের প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন, বিশ্বমানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী আনয়ন, বৈদেশিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তি, এবং বৈশ্বিক ফোরামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বুটেক্সকে বিশ্বের মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করতে হবে।
৩। পারিপার্শ্বিক গণ্ডি প্রসার: বুটেক্সের গণ্ডি শুধু একাডেমিক ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অবকাঠামোর দ্রুত ও স্থায়ী প্রসারসহ স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, মাঠ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার সুযোগ দেওয়া, এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বুটেক্সকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।
৪। উদ্ভাবন ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণ: বুটেক্সের প্রতিটি কার্যক্রম এমনভাবে পরিচালিত হোক, যেখানে উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সংমিশ্রণ ঘটে। শিক্ষার্থীরা যেন তাদের সৃজনশীলতাকে কেবল পেশাগত জীবনে নয়, বরং মানবিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য কাজে লাগাতে পারে।
যেদিন বুটেক্স এই নবজাগরণের পথে এগিয়ে যাবে, সেদিনই হবে বুটেক্সের প্রকৃত নতুন বছর। এ যাত্রার জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বুটেক্সের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন কথা বলে—উন্নয়ন, উদ্ভাবন, এবং নেতৃত্বের গল্প।
 বুটেক্স, এখন সময় এগিয়ে যাওয়ার, সময় নতুন ভবিষ্যতের দিগন্ত উন্মোচনের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মারুফ বলেন, ২০২৪এ বুটেক্স অনেক চড়াই-উতরাই পার করেছে, সম্মুখীন হয়েছে বহু প্রতিকূলতার পাশাপাশি এনেছে বেশ কিছু সম্ভাবনাময় পরিবর্তন। আশা করছি ২০২৫ এর বুটেক্স এক নতুন উদ্যমে তার যাত্রা শুরু করবে। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রত্যাশা থাকে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর। যেখানে আমরা দেখতে পেরেছি, বুটেক্স তার অধিকাংশই নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা, উপযুক্ত গবেষণার পরিবেশ না থাকা, শিক্ষক এবং ক্লাসরুম সংকট, ফলাফল পদ্ধতির ডিজিটালাইজেশন না থাকা ইত্যাদি বহু বছর ধরে চলমান সমস্যা। আশা করছি নতুন বছরে বুটেক্স প্রশাসন উক্ত সমস্যাগুলো আমলে নিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে সচেষ্ট হবে পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও তাদের সর্বোচ্চ প্র‍য়াস করবে যাতে সম্মিলিত উদ্যগে বুটেক্স সংস্কারের কাজ করা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নাঈম বলেন, নতুন বছরের বুটেক্স শিক্ষার্থী হিসেবে, আমার নিজের দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রত্যাশাগুলো:
প্রথমত, গুণগত মানের শিক্ষা। আমি আশা করি, এখানে এমন একটি শিক্ষার পরিবেশ পাব যেখানে শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান নয়, বরং বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলোর সমাধান শেখানো হবে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রত্যেকটি বিষয়কে গভীরভাবে বোঝার পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ চাই।
দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন। আমি চাই আমাদের ল্যাবগুলো আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত হোক, যাতে আমরা শিল্পখাতে ব্যবহৃত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারি এবং তা প্রয়োগ করতে শিখি।
তৃতীয়ত, ক্যাম্পাসের পরিবেশ। শিক্ষাজীবন উপভোগ্য করতে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ক্যাম্পাস পরিবেশ অপরিহার্য। পাশাপাশি আবাসন ব্যবস্থা, ক্যাফেটেরিয়া এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত হওয়া উচিত।
অবশেষে, আত্মোন্নয়ন ও নেতৃস্থানীয় দক্ষতা অর্জন। আমি আশা করি, বুটেক্স আমাকে শুধু একজন দক্ষ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নয়, একজন দায়িত্বশীল ও সৃজনশীল নেতা হিসেবে গড়ে তুলবে।
আমার এই প্রত্যাশাগুলো শুধু আমার স্বপ্ন নয়, বরং আমি বিশ্বাস করি, এগুলো অর্জনের মধ্য দিয়েই আমি বুটেক্সের গৌরবকে আরও উজ্জ্বল করতে পারব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইজ অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং  বিভাগের ৫০ ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ আবির আহমেদ অনি বলেন, নতুন বছরের সূচনা আমাদের প্রত্যেকের জন্য নতুন আশা, নতুন পরিকল্পনা এবং নতুন উদ্যম নিয়ে আসে। আমরা যারা বুটেক্সের শিক্ষার্থী, আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এখানে কাটছে। আমরা প্রত্যাশা করি একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা। বিশ্ব যখন প্রযুক্তির অগ্রগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমাদের শিক্ষাক্রমেও সেই উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া দরকার। আমরা চাই, এমন একটি পরিবেশ যেখানে গবেষণার সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আমাদের কাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হবে। আমরা চাই আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধাগুলো আরও উন্নত হোক। নতুন ল্যাব, লাইব্রেরি, এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। ক্যাম্পাসে একটি নিরাপদ ও প্রগতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের প্রত্যাশার অন্যতম অংশ। যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী নির্বিঘ্নে তাদের শিক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।
বিষয়ঃ

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার […]

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:০৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আলতাফ হোসেন শরিফ ওসমান হাদিকে কটূক্তিমূলকভাবে ‘জংলি’ আখ্যা দেন।

ওই পোস্টে তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার ঘটনাগুলোর সঙ্গে হাদির নাম জড়িয়ে মন্তব্য করেন, যা শিক্ষার্থীদের মতে চরম অবমাননাকর ও উসকানিমূলক।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল—‘হাদিকে যিনি জংলি বলেন, তিনি নিজেই জঞ্জাল’, ‘আপনি জংলি কাকে বলেন? জুলাই যোদ্ধাকে?’, ‘হাদি ভাইয়ের মতো আমরা সবাই জংলি, এই জঙ্গলে আমরা এমন শিক্ষক চাই না’—ইত্যাদি।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করা, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের অপতৎপরতা বন্ধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা,

ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ ওসমান হাদির নামে হল বা স্থাপনার নামকরণ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন বিপ্লবীকে ‘জংলি’ বলা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং দেশের জন্য আত্মত্যাগ ও জাতির সম্মানকে অপমান করার শামিল। তারা দাবি করেন, যিনি জাতির বিবেক গঠনের দায়িত্বে আছেন, তাঁর কাছ থেকে এমন ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ক্যাম্পাসে আবারও ফ্যাসিবাদী মানসিকতা মাথাচাড়া দিতে পারে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেন বর্তমানে স্কটল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।