বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

হারানোর পথে আপনার অমূল্য আমানত

আপনার জীবনে যে সম্পর্কটি চলে আসছে, তা নিয়ে আজ কিছু কথা বলতে চাই। হয়ত আপনি খুব বড় এক দ্বিধা- দ্বন্দ্বের মধ্যে আছেন। আপনি ভাবছেন, যদি এই সম্পর্কটি ভেঙে দেন, তাহলে তার মন ভেঙে যাবে, এবং আপনি তাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করলেও বারবার তার আকুতি এবং আবেগপূর্ণ কথাগুলো আপনার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। সে হয়ত আপনাকে […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জানুয়ারী ২০২৫, ১৯:২৬

আপনার জীবনে যে সম্পর্কটি চলে আসছে, তা নিয়ে আজ কিছু কথা বলতে চাই। হয়ত আপনি খুব বড় এক দ্বিধা- দ্বন্দ্বের মধ্যে আছেন। আপনি ভাবছেন, যদি এই সম্পর্কটি ভেঙে দেন, তাহলে তার মন ভেঙে যাবে, এবং আপনি তাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করলেও বারবার তার আকুতি এবং আবেগপূর্ণ কথাগুলো আপনার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। সে হয়ত আপনাকে বলেছিল, আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না, আমাকে কখনো ছেড়ে যেও না। আপনি একদিকে তার মন ভেঙে যাওয়ার চিন্তা করছেন, আর অন্যদিকে আপনি জানেন, এই সম্পর্কটি আদতে হারাম, যা আপনার ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে যায় না।

তবে আমি চাই, আপনি একটু ভেবে দেখুন। আপনি তার বাঁচা-মরা নিয়ে চিন্তা করছেন, কিন্তু আপনি কি কখনো এই বিষয়টি ভেবেছেন যে, আপনি যে রবের অনুগ্রহে বেঁচে আছেন, তার জন্য আপনার কতটা কৃতজ্ঞতা রয়েছে? আপনি তাকে ছেড়ে দিতে চিন্তিত, অথচ আপনি জানেন, তার মন রক্ষা করতে গিয়ে আপনি নিজের রবের মন ভেঙে দিচ্ছেন। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, আপনি আপনার রবের আমানতকে কীভাবে খেয়ানত করছেন?

আপনি জানেন, আপনার দিবারাত্রির পাহারায় যে ফেরেশতাগুলি নিয়োজিত, তারা আপনার অসংগত আচরণের জন্য আপনাকে অভিশাপ দিতে থাকে। আপনি যখন হারাম সম্পর্কের মাঝে বিশ্বাস রক্ষা নিয়ে চিন্তা করেন, তখন ভুলে যাবেন না, সেই এক অদৃশ্য রবের উপর বিশ্বাস রেখেই আপনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন, এবং আপনাকে হালাল ও হারামের সীমানা বুঝিয়েছেন। এখন আপনি কীভাবে তাঁর আদেশের বিরুদ্ধে গিয়ে এই সম্পর্কটি ধরে রাখতে পারেন?

এখন কিছু বিষয়ে গভীরভাবে ভাবুন। আপনি নিজেই আপনার রবের আমানত। আপনি কি কখনো ভেবেছেন, কীভাবে নিজের আমানতকে হারাম সম্পর্কের জন্য খেয়ানত করছেন? কীভাবে আপনি নিজের আবেগের কাছে হারিয়ে গিয়ে, আল্লাহর ভালোবাসাকে উপেক্ষা করছেন? অথচ আল্লাহ তায়ালা আপনাকে আশরাফুল মাখলুকাত বানিয়েছেন—এটা কি আপনি অনুভব করেন না? আল্লাহ তায়ালা যদি চান, তো আপনাকে তিনি অন্য কোনো প্রাণীও বানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি আপনাকে সুন্দর রূপ, বিবেক, বুদ্ধি দিয়েছেন, আপনাকে সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে তৈরি করেছেন।

যদি আপনি সত্যিই অনুভব করতে পারেন, আল্লাহ তায়ালা আপনাকে কতটা ভালোবাসেন, তাহলে এখনই সময় এসেছে, এমন হারাম সম্পর্কের সীমা টেনে দেয়াল তুলে দিয়ে, আপনার রবের দিকে ফিরে আসার। কখনো ভাববেন না, ওই মানুষের অভিশাপ আপনার জীবনে নেমে আসবে। আপনি যদি আপনার জীবনের মালিক—আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হন, তবে আপনি দেখবেন, পুরো পৃথিবী আপনার পায়ের তলায় পড়বে। যে সম্পর্কের ভিত্তি হারামের ওপর, তার বিশ্বাস রক্ষা করার চিন্তা করাও হারাম ।

মনে রাখুন, আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ ছাড়া পৃথিবীতে কিছুই সম্ভব নয়। মানুষের কাছে যদি ক্ষমা না মেলে, আল্লাহ তায়ালা কিন্তু কখনোই আপনাকে একা ছেড়ে দেবেন না। তাঁর ভালোবাসা, দয়া, এবং রহমত কখনো বন্ধ হয় না। আপনি যদি আল্লাহর পথে ফিরে আসেন, তিনি আপনাকে এক মুহূর্তের জন্যও একা ছেড়ে দিবেন না।

প্রিয় ভাই/বোন, আল্লাহর পথে ফিরে আসুন এবং আপনার জীবনের উদ্দেশ্য নতুন করে খুঁজে নিন। আপনার সম্পর্ক আল্লাহর সাথে মজবুত করুন, আর জান্নাতের পথে চলুন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে তাঁর সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন।
আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক অমূল্য হাদিস দিয়েছেন, যা আমাদের জন্য এক মহান গাইডলাইন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বা ও লজ্জাস্থান হেফাজত করবে, আমি তার জান্নাতের জিম্মাদার হবো।
আল্লাহ আমাদের হেদায়েত দিন, আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন, ও আমাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ দেখান।

ইসলাম ও জীবন

মিসরে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়ী চ্যাম্পিয়ন হাফেজ আনাসকে বিমানবন্দরে সংবর্ধনা

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া […]

নিউজ ডেস্ক

১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৪:৫২

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে ছাদখোলা বাসে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাকে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও বিশ্বজয়ী এই হাফেজকে এক নজর দেখার জন্য রাজপথে ভিড় করেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হাফেজ আনাস বলেন, আমরা যে দেশের ক্বারীদের তিলাওয়াত শুনে কেরাত শিখি, সেই দেশের প্রতিযোগিতায় বিজয় অর্জন করা আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের। কেরাতের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মিসরে গিয়ে প্রথম হওয়া সহজ ছিল না। তবে আমার ওস্তাদ, মা–বাবা এবং দেশবাসীর দোয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে।

হাফেজ আনাসের ওস্তাদ শায়খ নেছার আহমদ আন নাছিরী বলেন, তৃতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয় করেছে আমার ছাত্র। কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ৭০টি দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম স্থান অর্জন করে সে সবাইকে চমকে দিয়েছে।

তিনি জানান, গত ৭ ডিসেম্বর কায়রোতে চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত জাতীয় বাছাইপর্বে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে হাফেজ আনাস আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

প্রসঙ্গত, হাফেজ আনাস রাজধানীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ছাত্র। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া গ্রামে। এর আগেও তিনি সৌদি আরব ও লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন।

ইসলাম ও জীবন

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত। কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় […]

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

নিউজ ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত।

কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় রাত। আর হাদিসে একে উল্লেখ করা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ হিসেবে।

শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“শাবান মাসের অর্ধ রজনীতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)

অষ্টম শতাব্দীর প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) এই হাদিসের সব বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে জানা যায়, শবে বরাতের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ সময় সিজদায় মগ্ন ছিলেন। পরে তিনি বলেন,
“এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন।”
(শুআবুল ইমান)

শবে বরাতে ইবাদত ও রোজার গুরুত্ব
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
“১৪ শাবানের রাত তোমরা ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করো এবং পরদিন রোজা রাখো।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৮)

হাদিস বিশারদদের মতে, ফজিলতের ক্ষেত্রে এই হাদিস গ্রহণযোগ্য।

ভাগ্য নির্ধারণের রাত
পবিত্র কোরআনে সুরা দুখানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“এই বরকতময় রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।”
(সুরা দুখান: ২–৩)

তাফসিরকারদের একাংশের মতে, এখানে শবে বরাতের কথাই বোঝানো হয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
“অর্ধ শাবানের রাতে সব ফয়সালা নির্ধারিত হয়, আর শবে কদরে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়।”

হাদিসে আরও এসেছে—এই রাতে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, রিজিক ও আমলনামা নির্ধারণ করা হয়।

করণীয় কী?

শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি—

  • তসবিহ-তাহলিল
  • ইসতিগফার
  • দরুদ শরিফ
  • কোরআন তেলাওয়াত
  • নফল ও কাজা নামাজ
  • দোয়া ও মুনাজাত
  • কবর জিয়ারত
  • করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার
শবে বরাত কোনো বিদআত নয়; বরং কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

লেখক:
মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ

ইসলাম ও জীবন

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। শবে […]

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩০

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত।

শবে বরাত উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করছেন।

লাইলাতুল বরাত পালন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মাগরিবের নামাজের আগ থেকেই বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিরা জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শেষে শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ এশা আবারও ধর্মীয় আলোচনা শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের কল্যাণ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা হয়।

মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা জানান, তারা নিজেদের গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া করেছেন।

এই পবিত্র রাতে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে আজ সারারাত ইবাদতের পরিবেশ বিরাজ করছে।