বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

আল্লাহ আপনার কষ্ট দেখেন এবং আপনার কান্নাও শোনেন

আল্লাহ তাআলা আপনার কষ্ট দেখেন এবং আপনার কান্নাও শোনেন, এই বাস্তবতা আমাদের জীবনে এক অসীম শান্তির নিদর্শন। যখন আমরা জানি যে, আল্লাহ আমাদের প্রতিটি কষ্ট এবং কান্না শুনছেন, তখন এটি আমাদের হৃদয়ে শান্তি এনে দেয় এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপনে উৎসাহিত করে। জীবন কখনো সহজ হয় না। আমরা সবাই নানা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ জানুয়ারী ২০২৫, ১৯:০৪

আল্লাহ তাআলা আপনার কষ্ট দেখেন এবং আপনার কান্নাও শোনেন, এই বাস্তবতা আমাদের জীবনে এক অসীম শান্তির নিদর্শন। যখন আমরা জানি যে, আল্লাহ আমাদের প্রতিটি কষ্ট এবং কান্না শুনছেন, তখন এটি আমাদের হৃদয়ে শান্তি এনে দেয় এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপনে উৎসাহিত করে।

জীবন কখনো সহজ হয় না। আমরা সবাই নানা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হই; কখনো আর্থিক সংকট, কখনো শারীরিক কষ্ট, কখনো বা আত্মিক উদ্বেগ। এসময় আমরা মনে করি, কেউ আমাদের কষ্ট বুঝে না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা আমাদের বলতে চান, তোমার কষ্ট আমি জানি, তোমার কান্না আমি শুনছি। যদি আমরা শুধু একবার এই অনুভূতিটি বুঝতে পারি, তবে আমাদের মন শান্তি পাবে। কোরআনে আল্লাহ বলেন, আমি জানি তোমরা যা কিছু সহ্য করো, আমি তা জানি এবং আমি তোমাদের সহ্য করার শক্তি দিয়েছি।

যখন আল্লাহ আমাদের ওপর কোনো কষ্ট বা পরীক্ষা দেন, তখন তা আমাদের জন্য এক মূল্যবান শিক্ষা। কখনো আমরা ভুলে যাই, যে পরীক্ষাগুলো আমাদের দুর্বল করার জন্য নয়, বরং আমাদের পরিপূর্ণতা দান করার জন্য। আল্লাহ যখন আমাদের ওপর কোনো কঠিন মুহূর্ত পাঠান, তখন জানুন, তিনি আমাদের পরীক্ষা করছেন না, বরং আমাদের উত্থাপন করতে চাইছেন। তাই, আমাদের কষ্টের মধ্যে কোনো অশান্তি না দেখে, যদি আমরা আল্লাহর পরিকল্পনার প্রতি আস্থা রাখি, তবে দেখতে পাবো যে, এই কষ্টের মধ্যেও আমাদের জন্য রয়েছে অশেষ রহমত ও পূর্ণতা।

আল্লাহর প্রতি এই বিশ্বাস ও ধৈর্য আমাদের জীবনে এমন এক শান্তি এনে দেয়, যা কোনো পার্থিব সুখ বা সুখানুভূতি দিয়ে কখনো পাওয়া যাবে না। যখন আমরা কষ্টে আছি, তখন যদি আমরা আল্লাহর কাছে ফিরে যাই, তাঁর ওপর বিশ্বাস রাখি এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তখন আল্লাহ আমাদের কান্না শোনেন এবং আমাদের হৃদয়কে শান্ত করেন। যখন আমরা কাঁদি, তখনও আল্লাহ আমাদের একমাত্র আশ্রয়। তাঁর কাছে পৌঁছানোই আমাদের জন্য শান্তি এবং সুখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কখনো কখনো আমাদের দুঃখ আল্লাহ আমাদের জন্য বিশেষ উপহার হিসেবে দেন। সেই উপহার আমাদের আরও শক্তিশালী, ধৈর্যশীল এবং আরও বিশ্বাসী করে তোলে। আল্লাহ বলেন, যখন আপনি বিশ্বাস রাখেন এবং আল্লাহর কাছে আপনার সমস্যা ও কষ্ট তুলে দেন, তখন আল্লাহ সেই সব সমস্যাকে এমনভাবে সহজ করে দেন, যা আপনি কখনো কল্পনাও করতে পারেন না।

এটি আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিন, কারণ তিনি সবচেয়ে ভালো জানেন। আমাদের জীবনের সব কিছুই আল্লাহর ইচ্ছার অধীনে। যখন আমরা তাঁর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখি এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করি, তখন আমাদের জীবন এক নতুন আলোর মধ্যে ফুটে ওঠে। এক অনাবিল শান্তি এবং অপ্রত্যাশিত সাহায্যের পথ খুলে যায়।

আল্লাহ আমাদের কষ্ট দেখেন, আমাদের কান্না শোনেন এবং তাঁর অসীম দয়ায় আমাদের শিফা, শান্তি ও সান্ত্বনা প্রদান করবেন। যখন আমরা তাঁকে পূর্ণবিশ্বাস করব, যখন আমরা তাঁর কাছে নিজে সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করব, তখন এই জীবনের সব কঠিন মুহূর্তগুলোও সুন্দর ও আলোকিত হয়ে ওঠবে।ইনশাআল্লাহ ।

ইসলাম ও জীবন

মিসরে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়ী চ্যাম্পিয়ন হাফেজ আনাসকে বিমানবন্দরে সংবর্ধনা

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া […]

নিউজ ডেস্ক

১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৪:৫২

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে ছাদখোলা বাসে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাকে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও বিশ্বজয়ী এই হাফেজকে এক নজর দেখার জন্য রাজপথে ভিড় করেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হাফেজ আনাস বলেন, আমরা যে দেশের ক্বারীদের তিলাওয়াত শুনে কেরাত শিখি, সেই দেশের প্রতিযোগিতায় বিজয় অর্জন করা আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের। কেরাতের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মিসরে গিয়ে প্রথম হওয়া সহজ ছিল না। তবে আমার ওস্তাদ, মা–বাবা এবং দেশবাসীর দোয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে।

হাফেজ আনাসের ওস্তাদ শায়খ নেছার আহমদ আন নাছিরী বলেন, তৃতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয় করেছে আমার ছাত্র। কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ৭০টি দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম স্থান অর্জন করে সে সবাইকে চমকে দিয়েছে।

তিনি জানান, গত ৭ ডিসেম্বর কায়রোতে চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত জাতীয় বাছাইপর্বে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে হাফেজ আনাস আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

প্রসঙ্গত, হাফেজ আনাস রাজধানীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ছাত্র। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া গ্রামে। এর আগেও তিনি সৌদি আরব ও লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন।