জনি আহমেদ, (চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি):
চলমান পরিস্থিতিতেও হঠাৎ করেই উধাও হওয়ার ঘটনা উঠে আসে বিভিন্ন মিডিয়াতে। বাজারে নিত্যপণ্য উধাও হওয়ার ঘটনা ক্রেতাদের প্রায় প্রায়ই ভাবিয়ে তুলছে। যা কোনোভাবে কাম্য নয়।
তারা সিন্ডিকেটধারী ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বেশি লাভ করার লক্ষ্যেই নিত্যপণ্যের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসকেই উধাও করে দিচ্ছে বাজার থেকে। যা ভোক্তা অধিকার ও মানবতাবিরোধী অপরাধ। অথচ এ অপরাধ শেষ হচ্ছে না কোনোকালেই। সরকারের না পেরে ওঠার কারণও বুঝতে পারছে না সাধারণ মানুষ।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গায় বোতলজাত সয়াবিন তেল সঙ্কট তৈরী করে ভোক্তাদের যেমন চাহিদা থেকে বঞ্চিত করছে, অন্যদিকে খোলা সয়াবিন তেল বেশি দামে কিনতে বাধ্য করছে ব্যবসায়ীরা। এছাড়া সুযোগ পেয়ে বাজারে নিণ্ম মানের বিভিন্ন কোম্পানীর তেল বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এতে করে বিনিয়োগে সাধারণ মানুষ যেমন অচল হয়ে পড়ছে তেমনী ক্রেতাপর্যায়ে ক্ষোভ বাড়ছে অসাধু ব্যবসায়ীদের ওপর। এরই অংশ হিসেবে এবারও চুয়াডাঙ্গার বাজার থেকে সয়াবিন তেল উধাও হওয়ার ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে জেলা জুড়ে।
এরা অভিজ্ঞ সিন্ডিকেটধারী ব্যবসায়ী হওয়ায় ঈদকে সামনে রেখে আগে ভাগেই প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য বোতলজাত সয়াবিন তেলকে উধাও করে ফেলেছে চুয়াডাঙ্গার বড়বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা।
এদিকে, সরকার দুই দফায় শুল্ক-কর কমালেও সুফল মেলেনি। সর্বশেষ আরও ৮ টাকা দাম বাড়িয়েছে সরকার।
তাতেও সন্তুষ্টি হতে পারেনি ব্যবসায়ীরা। লাভের ওপর লাভ খেতে বাজারে সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সঙ্কট করেছে। তারা ঈদকে সামনে রেখে যাতে সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করতে না হয় সে ব্যবস্থা আগেভাগে করে নেচ্ছে বলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে এসব অভিযোগ করেন।
এদিকে, ন্যায্যমূল্য অনুযৃায়ী বোতলজাত সয়াবিন দাম ১৬৭ টাকার তেল বিক্রি করছে ১৭৫ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৫০ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা বাড়িয়ে ১৮০ টাকায় বিক্রি করছে বলে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমনটিই দেখা গেছে।
এদিকে সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে এ সুযোগে অনেকে আবার বোতলজাত সয়াবিন কেটে খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছে।
তবে ব্যবসায়িরা বলছেন, বোতলজাত তেল কোম্পানি বাজারে সরবরাহ করছে না। কেনো তেল সরবরাহ করছে না তাও পরিস্কারভাবে জানতে পারিনি। পুষ্টি কোম্পানির কিছু তেল সরবরাহ আছে। আর বাকি কোনো কোম্পানির তেল সরবরাহ নেই। খোলা বাজারে সয়াবিন তেল ডিলাররা দাম বাড়াচ্ছে যে কারণে খুচরা ব্যবসায়িরা দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু তেল মজুদ নেই।
তবে কয়েকদিনের মধ্যে তেলের দাম স্বাভাবিক হতে পারে। আরিফ নামে এক ক্রেতা বলেন, বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সারা বাজার ঘুরে যা পাওয়া যাচ্ছে তাও প্রতি লিটারের দাম বেশি নেচ্ছে। আবার আগের বোতলের দাম থেকে ১০ থেকে ১২ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।
আরেক ক্রেতা রোমানা বলেন, সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম যেমন তেমনি তেলের দামও বেশি। তবে ক্ষণে ক্ষণে তেলের দাম বাড়ানো আমাদের বিপদে ফেলে দেয়। এ বিষয়ে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ নেয়া উচিত।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বাজার পরিদর্শক সহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম। যে কারণে দাম বেশি দেখা যাচ্ছে। এখানে ব্যবসায়িরা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে তেল মজুদ করে যদি বাজারে দাম বাড়ায় তাহলে, তাহলে বিরুদ্ধে আইনুযায়ি ব্যবস্থা নেয়া হবে।