শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

স্বাধীনতাযুদ্ধে বাঙালি আলেমদের অমূল্য অবদান

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় সংগ্রাম। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে মুক্তির লড়াইয়ে কেবল সাধারণ মানুষ নয়, দেশের আলেম সমাজও ছিল অগ্রভাগে। তাদের অংশগ্রহণ ছিল একাধিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী। ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরতার পর মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান ছিল সঙ্গতি ও সংগ্রামের নিদর্শন। স্বাধীনতা অর্জনে আলেমরা যেভাবে নেতৃত্ব […]

নিউজ ডেস্ক

১৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৮:৩৭

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় সংগ্রাম। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে মুক্তির লড়াইয়ে কেবল সাধারণ মানুষ নয়, দেশের আলেম সমাজও ছিল অগ্রভাগে। তাদের অংশগ্রহণ ছিল একাধিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী। ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরতার পর মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান ছিল সঙ্গতি ও সংগ্রামের নিদর্শন।

স্বাধীনতা অর্জনে আলেমরা যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন ও নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তা আজও আমাদের প্রেরণা যোগায়। আজ আমরা তাদের সম্পর্কে জানবো ইনশাআল্লাহ ।

১. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সঙ্গী ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে তিনি সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে জনমত গঠনে অসামান্য ভূমিকা পালন করেন।

২. হাফেজ প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ
মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন একজন হাফেজে কুরআন। তিনি যুদ্ধকালীন সরকারের নেতৃত্ব দেন এবং দেশ মুক্তির লক্ষ্যে এক অগ্রণী নেতা হিসেবে কাজ করেন।

৩. শহীদ আলেম বুদ্ধিজীবী মাওলানা অলিউর রহমান
বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী একজন আলেম ছিলেন মাওলানা অলিউর রহমান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে পুস্তিকা রচনা করতেন। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ তার অকাল শহীদ হন আলবদর বাহিনীর হাতে।

৪. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের আলেমরা
মাওলানা উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ ও মাওলানা আবদুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী দুই ভাই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কুরআনভিত্তিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সচেতন করেন।

৫. যোদ্ধা সংগ্রাহক মুফতি আব্দুস সোবহান
চট্টগ্রামের মুফতি আব্দুস সোবহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজ বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ প্রদান করেন। তিনি নিজে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন এবং তরুণদের সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেন।

৬. গেরিলা যোদ্ধা মাওলানা আবদুর রহমান
কুমিল্লার মাওলানা আবদুর রহমান ছিলেন একজন গেরিলা যোদ্ধা। তিনি যুদ্ধের শুরুতে প্রশিক্ষণ নিয়ে একাধিক গেরিলা অভিযানে অংশ নেন ও দেশ স্বাধীন করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।

৭. লিফলেট বিতরণকারী মাওলানা আবু ইসহাক
রাঙামাটির মাওলানা আবু ইসহাক পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণ করতেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনগণকে জাগ্রত করতেন। রাজাকার বাহিনী তাকে খুঁজতে শুরু করলে তিনি গভীর জঙ্গলে আত্মগোপন করেন।

৮. মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের অংশগ্রহণকারী মাওলানা আবদুস সোবহান
মাওলানা আবদুস সোবহান মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ গঠন করেন এবং তার নেতৃত্বে শতাধিক যোদ্ধা সংগ্রহ করা হয়।

৯. মাওলানা দলিলুর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রাম
মাওলানা দলিলুর রহমান রাঙ্গুনিয়ায় প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম থেকেই আলেম সমাজকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১০. মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সেনা কর্মকর্তা মাওলানা নূরুল আফসার
মাওলানা নূরুল আফসার ফেনী ও নাজিরহাট অঞ্চলের একাধিক মুক্তিযুদ্ধের অভিযানে অংশগ্রহণ করেন এবং পরে সেনাবাহিনীতে যোগদান করে সার্জেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করেন।

১১. মসজিদে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দানকারী মাওলানা মতিউল ইসলাম
নারায়ণগঞ্জের মিলনপাড়া মসজিদের ইমাম মাওলানা মতিউল ইসলাম যুদ্ধকালীন সময়ে মসজিদে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে তাদের সুরক্ষা প্রদান করেন।

১২. সংবাদ সংগ্রহকারী মাওলানা মির্জা মোহাম্মদ নূরুল হক
কুড়িগ্রামের মাওলানা মির্জা মোহাম্মদ নূরুল হক পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সংবাদ সংগ্রহ করতেন এবং যুদ্ধকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করতেন।

১৩. তিস্তা ব্রিজ দখলকারী মাওলানা আমজাদ হোসেন
মাওলানা আমজাদ হোসেন মুক্তিযুদ্ধের সময় তিস্তা ব্রিজ অপারেশনে অংশ নিয়ে দীর্ঘ ১৩ দিন যুদ্ধ করে ব্রিজটি দখল করেন।

১৪. প্রকাশ্যে জীবন উৎসর্গকারী মাওলানা আবুল হাসান
মাওলানা আবুল হাসান যশোর রেলস্টেশন মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন এবং পাকিস্তানি বাহিনী তার মাদরাসায় হামলা চালিয়ে তাকে শহীদ করে। তার আত্মত্যাগ দেশের স্বাধীনতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এইসব আলেমরা শুধুমাত্র ধর্মীয় নেতাই ছিলেন না, বরং তারা মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে দেশকে স্বাধীন করতে তাদের জীবন উৎসর্গ করেন। তারা দেশে এবং বিদেশে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি পদক্ষেপে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাদের অবদান আজও বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আলেম সমাজের এই সাহসিকতা ও ত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা উচিত, কেননা তারা প্রমাণ করেছেন, ধর্ম, জাতি, ও স্বাধীনতার সংগ্রামে কখনো কোনো বিভেদ হতে পারে না, বরং একসঙ্গে এগিয়ে চলা ছাড়া মুক্তি সম্ভব নয়।

ইসলাম ও জীবন

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত। কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় […]

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

নিউজ ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত।

কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় রাত। আর হাদিসে একে উল্লেখ করা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ হিসেবে।

শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“শাবান মাসের অর্ধ রজনীতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)

অষ্টম শতাব্দীর প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) এই হাদিসের সব বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে জানা যায়, শবে বরাতের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ সময় সিজদায় মগ্ন ছিলেন। পরে তিনি বলেন,
“এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন।”
(শুআবুল ইমান)

শবে বরাতে ইবাদত ও রোজার গুরুত্ব
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
“১৪ শাবানের রাত তোমরা ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করো এবং পরদিন রোজা রাখো।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৮)

হাদিস বিশারদদের মতে, ফজিলতের ক্ষেত্রে এই হাদিস গ্রহণযোগ্য।

ভাগ্য নির্ধারণের রাত
পবিত্র কোরআনে সুরা দুখানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“এই বরকতময় রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।”
(সুরা দুখান: ২–৩)

তাফসিরকারদের একাংশের মতে, এখানে শবে বরাতের কথাই বোঝানো হয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
“অর্ধ শাবানের রাতে সব ফয়সালা নির্ধারিত হয়, আর শবে কদরে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়।”

হাদিসে আরও এসেছে—এই রাতে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, রিজিক ও আমলনামা নির্ধারণ করা হয়।

করণীয় কী?

শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি—

  • তসবিহ-তাহলিল
  • ইসতিগফার
  • দরুদ শরিফ
  • কোরআন তেলাওয়াত
  • নফল ও কাজা নামাজ
  • দোয়া ও মুনাজাত
  • কবর জিয়ারত
  • করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার
শবে বরাত কোনো বিদআত নয়; বরং কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

লেখক:
মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ

ইসলাম ও জীবন

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)। লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে […]

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

নিউজ ডেস্ক

০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:২৪

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)।

লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে চান। এর আগে সেন্ট্রাল সি তার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে জনসমক্ষে খুব একটা কথা বলেননি।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করলেও ২০২১ সালের দিকে সেন্ট্রাল সি ইউকে র‍্যাপ জগতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম ব্রিটিশ র‍্যাপার হিসেবে একটি একক প্ল্যাটফর্মে এক বিলিয়ন স্ট্রিম অর্জনের রেকর্ড রয়েছে তার। ড্রেক (Drake) এবং জে. কোল (J. Cole)-এর মতো বিশ্বসেরা তারকাদের সাথে কাজ করে তিনি গত কয়েক বছরে সাফল্যের তুঙ্গে রয়েছেন।

নিজের দ্রুত উত্থান সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সবকিছু এতো দ্রুত ঘটছে যে মাঝে মাঝে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যায়। আমি এতোদিন ধরে এতো দ্রুত দৌড়াচ্ছি যে এসব নিয়ে ভাবার সময়টুকুও পাইনি।

পেশাদার জীবনের এই ব্যস্ততার মাঝে তার এই ব্যক্তিগত এবং আধ্যাত্মিক পরিবর্তন ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তার অনুসারীরা তাকে শুভকামনা জানাচ্ছেন। মুসলিম কমিউনিটির পক্ষ থেকে তার এই সিদ্ধান্তকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন

ইসলাম ও জীবন

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। শবে […]

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩০

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত।

শবে বরাত উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করছেন।

লাইলাতুল বরাত পালন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মাগরিবের নামাজের আগ থেকেই বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিরা জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শেষে শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ এশা আবারও ধর্মীয় আলোচনা শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের কল্যাণ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা হয়।

মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা জানান, তারা নিজেদের গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া করেছেন।

এই পবিত্র রাতে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে আজ সারারাত ইবাদতের পরিবেশ বিরাজ করছে।