দোয়া একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হচ্ছে – ডাকা, আহ্বান করা ও চাওয়া। পৃথিবীতে সাধারণত, যখন কেউ বার বার কিছু চায়, তখন তা মানুষকে বিরক্ত করে। কিন্তু আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া বা দোয়া করা কখনোই বিরক্তির কারণ নয়। বরং, মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের চাওয়া মেনে নেন এবং তাদের দোয়া কবুল করেন। আল্লাহ এমন একজন, যার কাছ চাইলে তিনি কখনো রাগান্বিত হন না , বরং তিনি সন্তুষ্ট হন। তাই আমাদের সবকিছু মহান আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে, আর এর মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জন করতে হবে।
মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে, তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে এবং লাঞ্ছিত হবে।
(সূরা মুমিনুন: ২)
এই আয়াতটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, আল্লাহ বান্দার দোয়া শোনেন এবং তার ডাকে সাড়া দেন। আল্লাহর কাছ থেকে মঙ্গল ও শান্তি চাওয়া আমাদের কর্তব্য।
হজরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়ে থাকে, যদি সে তাড়াহুড়া না করে, আর বলে যে, আমি দোয়া করলাম, কিন্তু আমার দোয়া তো কবুল হলো না।(বুখারি: ৬৩৪০)
এটি প্রমাণ করে যে, দোয়া অবশ্যই কবুল হয়, তবে তার জন্য ধৈর্য ও দৃঢ় বিশ্বাস প্রয়োজন। আল্লাহ তায়ালা সময় মত দোয়া কবুল করেন এবং সঠিক সময়ে আমাদের প্রয়োজন মেটান।
মহান আল্লাহ তায়লা তাঁর নবীজির মাধ্যমে আমাদের অনেক দোয়া শিখিয়েছেন, যেগুলি সহজে আমল করা যায়, অথচ এর ফজিলত অগণিত। বিশেষ কিছু দোয়া রয়েছে, যা পড়লে জান্নাত নিশ্চিত হয়ে যায়। এর মধ্যে একটি হলো:
রাদিতু বিল্লাহি রাব্বাউ ওয়া বিল ইসলামি দ্বিনাউ ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যাও ওয়া রসুলা
অর্থ: আমি আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রসুল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছি।(মুসলিম: ১৮৮৪)
এই দোয়া পাঠ করলে জান্নাতের নিশ্চয়তা রয়েছে। হজরত মুনাইজির রা. বলেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে উপরোক্ত দোয়া পড়বে, তাকে হাতে ধরে জান্নাতে পৌঁছানোর জিম্মাদার আমি।(মুজামুল কাবির: ২০/৩৫৫; আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব: ৯৭১)
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হাদিসে এসেছে, যা মুয়াজ্জিনের আজান শুনে পাঠ করতে হয়। হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা. বর্ণনা করেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,যে ব্যক্তি মুয়াজ্জিনের আজান শুনে নিম্নোক্ত দোয়া পড়বে, তার গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
দোয়াটি হলো:
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসুলুহু; রাদিতু বিল্লাহি রাব্বাউ ওয়া বিল ইসলামি দ্বিনাউ ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যাও ওয়া রসুলা
অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তার কোনো শরিক নেই। মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রসুল। আমি আল্লাহকে রব, মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রসুল এবং ইসলামকে দীন হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছি।
দোয়া আমাদের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দোয়া মহান আল্লাহর কাছে চাওয়ার মাধ্যম এবং আমাদের ঈমান ও বিশ্বাসের পরিপূর্ণতা। আমাদের উচিত, সবকিছু আল্লাহর কাছে চাওয়া এবং তাঁর উপর ভরসা রাখা, কারণ আল্লাহ বান্দার প্রতি কখনোই অবিচার করেন না।