মোঃ সোবেল মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরে একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আলমারি ও ওয়ারড্রোব তছনছ করে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা সদরের প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি মার্কেট সংলগ্ন উত্তর পাড়ায় অবস্থিত নাসিরনগর সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মো. মাঈন উদ্দীন শান্ত-এর মালিকানাধীন একটি তিনতলা ভবনে। ভবনটির তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকেন একই কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক রওশন আরা আহম্মদ আঁখি। ভবনের দ্বিতীয় তলায় বসবাস করেন বাড়ির মালিক প্রভাষক মাঈন উদ্দীন শান্ত।
জানা গেছে, রওশন আরা আহম্মদ আঁখির স্বামী ঢাকায় চাকরি করেন। তিনি সন্তান ও বাবাকে নিয়ে নাসিরনগরের ওই বাসায় বসবাস করতেন। তবে পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বাসায় তালা দিয়ে সন্তানকে নিয়ে স্বামীর কাছে ঢাকায় চলে যান। এ সময় বাসাটি ফাঁকা থাকলেও নিকটাত্মীয়রা মাঝেমধ্যে এসে খোঁজখবর নিতেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে বাড়ির মালিক মাঈন উদ্দীন শান্ত তিনতলায় গিয়ে দেখতে পান ভাড়াটিয়ার বাসার দরজা খোলা। এতে তার সন্দেহ হলে তিনি ভেতরে গিয়ে দেখেন বাসার ভেতরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
ঘরের ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, স্টিলের আলমারি ভেঙে ড্রয়ারগুলো খুলে কাপড়চোপড় ও অন্যান্য জিনিসপত্র ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। ওয়ারড্রোবের ভেতরের জিনিসপত্রও তছনছ করা হয়েছে। মেঝেতে পড়ে ছিল স্বর্ণালংকারের খালি বাক্স। ঘরের বিছানাপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী লণ্ডভণ্ড অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় কী পরিমাণ স্বর্ণালংকার বা মালামাল খোয়া গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবার বাসায় ফিরে বিস্তারিত হিসাব করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে বাড়ির মালিক প্রভাষক মাঈন উদ্দীন শান্ত তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে ভাড়াটিয়া রওশন আরা আহম্মদ আঁখিকে অবহিত করেন এবং নাসিরনগর থানায় খবর দেন।
পরে বিকেলে নাসিরনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র দাশ-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে।
এদিকে উপজেলা সদরের আবাসিক এলাকায় এমন চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।