মঈন উদ্দীন,বান্দরবান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান ৩০০ নং আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরীর ২য় বারের মত বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় বান্দরবান বিএনপির আয়োজনে গন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) বিকাল ৩ টায় বান্দরবান ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠে বান্দরবান বিএনপির আয়োজনে এই রাজকীয় গন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় বান্দরবান বিএনপির সিনিয়রের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ওসমান গনির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত ৩০০ নং আসনের সাংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরীর প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাচিং প্রু জেরীর বলেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারে যে ৩১ দফা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছেন, তা দেশের সকল কর্মী, নেতাকর্মী ও সদস্যদের আন্তরিকভাবে অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে বান্দরবান জেলা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এখনও অনেকাংশে পিছিয়ে রয়েছে। এসব খাতের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রথমেই শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কাজ শুরু করবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বান্দরবানের অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জেলাকে একটি আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখা এবং পরিবেশ ধ্বংস রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিশেষে তিনি বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবান সম্পদ; তাঁর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ,মিসেস মম চিং সহধর্মিণী সাচিং প্রু জেরী,যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আব্দুল মাহবুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মজিবুর রশিদ, সদর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কুদুস,জেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান মিঠুনসহ বান্দরবান জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতা এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাজারো নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলার ৭ উপজেলা থেকে আগত হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের প্রাণবন্ত স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠ। সংবর্ধনা স্থলজুড়ে নেতাকর্মীদের আগমনে সৃষ্টি হয় গণজোয়ার; পুরো মাঠ যেন পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত জনসমুদ্রে।
বান্দরবানের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ—বাঙালি, মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, খিয়াং, খুমি, বম, লুসাইসহ বারোটি সম্প্রদায়ের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পায় এক অনন্য সম্প্রীতির রূপ। নানা রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, দলীয় পতাকা ও উচ্ছ্বাসে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য।