মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। মিনারকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রবেশপথের প্রতিটি সড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থার কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। শিল্পীদের রঙের তুলিতে সাজানো হয়েছে আশপাশের সড়কগুলো—নতুন সাজে যেন উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
দুপুরের পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ মিনারের নতুন রূপ দেখতে আসেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে এসে ছবি তোলেন। তবে সন্ধ্যা সাতটার পর ধীরে ধীরে দর্শনার্থীদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
আগামীকাল শনিবার মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হবে এদিন। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে।
নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শুক্রবার সকালে শহীদ মিনার এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, মহান শহীদ দিবসে বিপুল মানুষের সমাগম হবে। তাই কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
সন্ধ্যার পর দোয়েল চত্বর মোড়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, জগন্নাথ হল মোড় ও শিববাড়ি মন্দির মোড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিভিন্ন পয়েন্টে সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাসমান লোকজন ও হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়। রাত পৌনে ৮টার পর থেকে প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। অমর একুশের নিরাপত্তা পাসধারীদেরই কেবল ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
ডিএমপি কমিশনার সর্বসাধারণকে শৃঙ্খলা ও শহীদ মিনারের পবিত্রতা বজায় রেখে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানান।