বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

খেলা

সম্পদের তথ্য গোপনেও ‘নাম্বার ওয়ান’ সাকিব আল হাসান

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল মুখ সাকিব আল হাসান। ‘ক্রিকেটের বাইবেল’খ্যাত ‘উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালামনাক’ ২০০৯ সালে তাকে বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার, একদিনের ক্রিকেট সংস্করণে দশকের (২০১০-২০) সেরা ক্রিকেটার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নিঃসন্দেহে এ স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তি সাকিবকে নয়, দেশের সাধারণ মানুষকেও আলোড়িত করেছে। কিন্তু ক্রীড়াব্যক্তিত্ব হিসেবে তার এ পরিচয় অনেক সময় আড়ালে রেখেছে মাঠের বাইরের নানা কর্মকাণ্ড। […]

সম্পদের তথ্য গোপনেও ‘নাম্বার ওয়ান’ সাকিব আল হাসান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:২২

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল মুখ সাকিব আল হাসান। ‘ক্রিকেটের বাইবেল’খ্যাত ‘উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালামনাক’ ২০০৯ সালে তাকে বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার, একদিনের ক্রিকেট সংস্করণে দশকের (২০১০-২০) সেরা ক্রিকেটার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

নিঃসন্দেহে এ স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তি সাকিবকে নয়, দেশের সাধারণ মানুষকেও আলোড়িত করেছে। কিন্তু ক্রীড়াব্যক্তিত্ব হিসেবে তার এ পরিচয় অনেক সময় আড়ালে রেখেছে মাঠের বাইরের নানা কর্মকাণ্ড।

অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের জন্য ক্রীড়াঙ্গনে নিষিদ্ধও হয়েছিলেন সাকিব। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার একটা মোহ হয়তো তাকে তাড়া করে ফেরে! এ জন্য জড়িয়েছেন রাজনীতিতে। যুক্ত হয়েছেন শেয়ারবাজারের কারসাজিতেও।

এ কারণে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হয়েছেন। সুযোগ পেলে অর্থ উপার্জনের কোনো উপায় হাতছাড়া করেন না। লোভে পড়েই কক্ষচ্যুত হয়েছেন বলে মাঝেমধ্যেই তার সমালোচনা হয়। এবার জানা গেল কর ফাঁকিতেও পিছিয়ে নেই দেশের ‘নাম্বার ওয়ান’খ্যাত ক্রিকেটার সাকিব।

ব্যাংকের এফডিআর, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, আমানতের সুদ থেকে আয় কিংবা দেশ-বিদেশে যেসব ক্রিকেট লিগে অংশ নিয়েছেন সেসব থেকে আয়ের তথ্যও গোপন করেছেন সাকিব। এখন পর্যন্ত ১০৬ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্থের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর তদন্ত গোয়েন্দা ইউনিট। এর মধ্যে কর ফাঁকির পরিমাণ ৩০ কোটি টাকার বেশি।

আয়কর নথি অনুযায়ী সাকিবের আয়ের খাত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় হিসেবে মাসিক বেতন, বিজ্ঞাপনী আয় আর ব্যাংকের কিছু স্থিতি। এছাড়া একমাত্র ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ (আইপিএল) থেকে আয় দেখানো হয় শুধু ২০১৭-১৮ করবর্ষে। যদিও তিনি ২০০৮ সালে আইপিএল শুরুর বছর থেকেই অংশ নিচ্ছেন।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, আইপিএল ছাড়াও বিশ্বের প্রায় সব টি-২০ লিগে অংশ নিয়েছেন সাকিব। এর মধ্যে ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত (২০১৩ সাল ব্যতীত) তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলেছেন। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭, ২০২২-২৩ ও ২০২৫ মৌসুমে খেলেন।

এলপিএলে ২০২৩ সালে, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) ২০১৩, ২০১৬, ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২২ মৌসুমে, বিগ ব্যাশ লিগে ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ মৌসুমে, চ্যাম্পিয়ন লিগ টি-২০তে ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ মৌসুমে, মেজর লিগ ক্রিকেটে (এমএলসি) ২০২৪ সালে খেলেন। কিন্তু এসব লিগ থেকে উপার্জিত আয়ের কোনো তথ্যই আয়কর নথিতে দেখাননি তিনি। বিভিন্ন সময়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ কিংবা ম্যান অব দ্য সিরিজ হিসেবে পুরস্কারের অর্থও গোপন করেছেন সাকিব।

গোয়েন্দারা সাকিবের আয়কর নথি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পেয়েছেন। তবে এ বিষয়ে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। বিশেষ করে ২০২১-২২ আয়কর বছর থেকে সাকিবের এফডিআরের পরিমাণ কমতে শুরু করে। গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, সাকিব তার জমানো অর্থ উত্তোলন করে দেশের বাইরে নিয়ে গেছেন।

আমেরিকার নিউ ইয়র্কে তার বাড়ি থাকার তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়রা ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে টি-২০ বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য দেশটিতে সফরে গেলে সাকিবের বাসায় আতিথ্য গ্রহণ করার খবর বহুলভাবে প্রচারিত হয়। তিনি নিজেও ইনস্ট্রাগ্রাম স্টোরিতে সেটির ছবি ও ভিডিও আপলোড করেন। এতে দেশের বাইরে সাকিবের আরো সম্পদের খোঁজ মিলতে পারে বলে আয়কর গোয়েন্দারা ধারণা করছেন।

সাকিবের অর্থ কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত এখনো চলমান আছে। বর্তমানে ‘সাকিব আল হাসান ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’ ও ‘সাকিব আল হাসান ক্যানসার ফাউন্ডেশন’ নামে দুটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আয়কর ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের কমিশনার আবদুর রকিব বলেন, সাকিবের কর ফাঁকির বিষয়ে তদন্ত চলমান আছে। ইতোমধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের খোঁজ মিলেছে। এসব সম্পদের বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আদায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়। মূলত ব্যক্তি পর্যায়ে আয়ের তথ্য গোপন করে রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন ও আদায়ে এই ইউনিট গঠন করা হয়। তদন্ত ইউনিট তাদের প্রথম ফাইলটি ওপেন করে সাকিবের নামেই। এখানেও তিনি ‘নাম্বার ওয়ান’।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬-০৭ আয়করবর্ষ থেকে রিটার্ন দাখিল করেছেন সাকিব। তবে ২০২৪-২৫ করবর্ষের রিটার্ন জমা দেননি। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও শেখ হাসিনার ভারতে পলায়নের পর সাকিবও দেশে অবস্থান না করার কারণে তিনি রিটার্ন জমা দেননি বলে ধারণা করছেন আয়কর কর্মকর্তারা। তবে দাখিল করা রিটার্নের মধ্যে ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ আয়করবর্ষের রিটার্নের তথ্য যাচাই শুরু করেন আয়কর গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করে এক আয়কর গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, সাকিবের সম্পদের খোঁজ পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। অনেক কোম্পানির পরিচালক হিসেবে তার নাম পাওয়া যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ২৩টি প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া গেছে। কিন্তু ফাইলে দেখানো হয়েছে ৯টির নাম।

অবশ্য এর মধ্যে ১১টির পরিচালকের পদ ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ৯টি কোম্পানির জন্য একই ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। এই ঠিকানা হচ্ছে ১০/২ গাউসিয়া কাশেম সেন্টার। ৫০০ বর্গফুটেরও কম পরিসরের একটি কক্ষে এতগুলো কোম্পানির নিবন্ধন শুধু শেয়ার ব্যবসার জন্য নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি।

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্য কেউ ফায়দা লুটতে সাকিবের নাম ব্যবহার করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শেয়ারবাজারের আলোচিত ব্যবসায়ী হিরোর স্ত্রী কাজি সাদিয়া হাসানের মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেড নামে একটি ব্রোকারেজ হাউসের মালিকানাও রয়েছে সাকিবের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ করবর্ষে ২৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা আয়কর দেখানো হয়। ওই বছরে ছয় কোটি ৫৭ লাখ টাকা এফডিআর এবং সুদ বাবদ এক কোটি ৯২ লাখ টাকা আয় গোপনের তথ্য মিলেছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের তথ্যও দেখানো হয়নি। ২০২১-২২ করবর্ষে শেয়ার ব্যবসায় বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে ছয় কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

এসবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট নামে একটি সিকিউরিটিজ হাউস থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যায় সাকিবের বিনিয়োগের পরিমাণ ২১ লাখ ৮৮ লাখ টাকা। র‌্যাংকন থেকে ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা দামের একটি ফ্ল্যাট কেনেন, যা ২০২৩ সালে তার নামে হস্তান্তর করা হয়েছে সেটিও আয়কর নথিতে নেই। এভাবে ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ করবর্ষ পর্যন্ত সাকিবের আয়বহির্ভূত ব্যাংক হিসাবে পাওয়া গেছে ১০৬ কোটি টাকা।

সূত্র আরো জানায়, সাকিবের নামে কোনো গাড়ি নেই। একসময় দুটি গাড়ি দেখানো হলেও পরে সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি যেসব গাড়ি ব্যবহার করেন, সেগুলো তার প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত।

কয়েকটি সূত্র জানায়, সাকিব ২০১৮ সালের নভেম্বরে রাজনীতিতে নাম লেখান। ওই সময় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে মাগুরা-১ আসন থেকে একই দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ‘রাতের ভোট’ নামে খ্যাত ওই নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিতও হন।

তবে ২০২৩ সালে সংসদ সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। খেলার মাঠে পুরোপুরি মনোনিবেশ করতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তবে সম্প্রতি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফের আলোচনায় আসে তার নাম। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বরাবরই সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার বিরোধিতা করে আসছেন। সে হিসেবে সাকিব আগামীতে দেশের হয়ে খেলতে পারবেন তা নিশ্চিত নয়।

বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করা এই ক্রীড়াবিদ সবশেষ গত বছরের নভেম্বরে দেশে ফিরেছিলেন, বিসিবির সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করতে। কিন্তু সে আলোচনা ভেস্তে যায় এবং সাকিব দেশ ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে তিনি আমেরিকায় অবস্থান করছেন।

সাকিবের সম্পদের তথ্য গোপন ও আয়কর ফাঁকির বিষয়ে কথা বলতে তার আইনজীবী আবদুস সবুরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি মেসেজ পাঠালেও কোনো জবাব মেলেনি।

ক্রিকেট

আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিলো বিসিবি, আরবিট্রেশনে যাচ্ছে না বাংলাদেশ

আইসিসির সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের নাম বাদ পড়লেও সে বিষয়ে কোনো আইনি বা সালিশি পথে হাঁটছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মিরপুরে বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে আইসিসির ঘোষণাকে মেনে নেওয়ার অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিসিবি। আইসিসির সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক দিন ধরেই আলোচনা চলছিল, বিসিবি চাইলে বিষয়টি আদালত বা সালিশি ট্রাইব্যুনালে নিতে […]

আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিলো বিসিবি, আরবিট্রেশনে যাচ্ছে না বাংলাদেশ

আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিলো বিসিবি, আরবিট্রেশনে যাচ্ছে না বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৮

আইসিসির সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের নাম বাদ পড়লেও সে বিষয়ে কোনো আইনি বা সালিশি পথে হাঁটছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মিরপুরে বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে আইসিসির ঘোষণাকে মেনে নেওয়ার অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিসিবি।

আইসিসির সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক দিন ধরেই আলোচনা চলছিল, বিসিবি চাইলে বিষয়টি আদালত বা সালিশি ট্রাইব্যুনালে নিতে পারে। তবে আইসিসি বোর্ড সভায় ১৪–২ ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ায় সেটি বদলানোর আইনি ভিত্তি নিয়ে সংশয় ছিল শুরু থেকেই।

এসব আলোচনা ও গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে বিসিবি পরিচালক এবং বোর্ডের মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন স্পষ্ট করে জানান, বিসিবির পক্ষ থেকে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।

তিনি বলেন, “আমরা আইসিসির বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। আইসিসি যেহেতু বলেছে যে আমরা খেলতে যেতে পারব না কিংবা আমাদের খেলা অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে না, সে ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষে ভারতে গিয়ে খেলা সম্ভব নয়। এই অবস্থানেই আমরা থাকছি। কোনো ধরনের আরবিট্রেশন বা আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা যাচ্ছি না।”

এর আগে বৃহস্পতিবার ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছিলেন, ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি বাংলাদেশ সরকারের। বিসিবি পরিচালকের বক্তব্যেও একই অবস্থান উঠে এসেছে।

আমজাদ হোসেন বলেন, “আইসিসি বোর্ড সভার পর বাংলাদেশ সরকারের ক্যাবিনেট বৈঠক হয়। সেখানে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত এসেছে—যদি নির্ধারিত সূচিতে পরিবর্তন না আনা হয়, তাহলে আমাদের দল ভারতে গিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এটি সরকারের পক্ষ থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, আইসিসি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবস্থান জানাতে বললে বিসিবি সরকারকে সম্মান জানিয়ে একই সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছে। “আমরা আইসিসিকে বিনয়ের সঙ্গে জানিয়েছি, এই ফিক্সচার অনুযায়ী আমাদের পক্ষে খেলতে যাওয়া সম্ভব নয়,” বলেন তিনি।

খেলা

বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে ‘গায়েব’ করে দিল আইসল্যান্ড

‘হট টপিক’ নিয়ে হাস্য রসিকতাকে যেন আইসল্যান্ড ক্রিকেট অন্য এক মাত্রায় নিয়ে গেছে। ক্রিকেটে তেমন একটা জনপ্রিয় না হয়ে উঠলেও সামাজিক মাধ্যমে তাদের পোস্টগুলো দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এবার ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়েও তারা মজা করতে বাদ রাখেনি। আইসিসির এই ইভেন্ট থেকে বাংলাদেশের নামই ছেঁটে ফেলল আইসল্যান্ড ক্রিকেট। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর এক মাস বাকি থাকলেও […]

নিউজ ডেস্ক

০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১৫

‘হট টপিক’ নিয়ে হাস্য রসিকতাকে যেন আইসল্যান্ড ক্রিকেট অন্য এক মাত্রায় নিয়ে গেছে। ক্রিকেটে তেমন একটা জনপ্রিয় না হয়ে উঠলেও সামাজিক মাধ্যমে তাদের পোস্টগুলো দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এবার ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়েও তারা মজা করতে বাদ রাখেনি। আইসিসির এই ইভেন্ট থেকে বাংলাদেশের নামই ছেঁটে ফেলল আইসল্যান্ড ক্রিকেট।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর এক মাস বাকি থাকলেও ভেন্যু নিয়ে জটিলতা কাটেনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) ২০ দলের সূচি, গ্রুপিং সব ঠিক করে ফেলেছে ঠিকই। কিন্তু ভারতের মাঠে বিশ্বকাপ খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন সামাজিকমাধ্যমে হাসির খোরাক জোগাল আইসল্যান্ড ক্রিকেট।

গতকাল নিজেদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ২০ দলের নাম ও গ্রুপ প্রকাশ করেছে। ১৯ দলের নাম ঠিক থাকলেও ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরিবর্তে আইসল্যান্ডের নাম বসিয়ে দিয়েছে আইসল্যান্ড ক্রিকেট। ক্যাপশনে আইসল্যান্ড ক্রিকেট লিখেছে, ‘এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য কারা বেশি আগ্রহী?’

নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে লিটন দাস-তানজিদ হাসান তামিমদের খেলতে অসুবিধা হবে বলে বিকল্প ভেন্যুতে খেলতে আইসিসিকে গত রোববার চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে যখন চলছে নানা আলাপ-আলোচনা, সেই মুহূর্তে পরশু রাতে ক্রিকইনফোর এক খবর বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের জন্য দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছিল।

বাংলাদেশকে ভারতের মাঠে খেলতে হবে অথবা পয়েন্ট কাটা যাবে—ক্রিকইনফোর খবর ছিল এমনই। এমনকি ভেন্যু পরিবর্তনের ইস্যুতে বিসিবিকে আইসিসি আলটিমেটাম দিয়েছে বলে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। তবে বিসিবি গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এটা পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। বাংলাদেশ দলের স্বার্থে যেকোনো কিছু গুরুত্ব সহকারে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা দেখবে বলে জানিয়েছে বিসিবি।

৩ জানুয়ারি আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের নাম কলকাতা নাইট রাইডার্স বাদ দেওয়ার পর মূলত বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের আলোচনা জোরালো হয়েছে। একজন ক্রিকেটারকে যখন নিরাপত্তা দিতে পারছে না ভারত, তখন পুরো দলকে নিরাপত্তা কীভাবে দেবে—এই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলটও ভারতে গিয়ে বাংলাদেশ দলের জন্য বিশ্বকাপ খেলা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন।

আইসিসিকে পাঠানো মেইলের জবাবের পর ভারতে খেলার ব্যাপারে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে বিসিবির নীতিনির্ধারকদের সভা হয়েছে। সভা শেষে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আইসিসিকে আবারও বোঝা হবে।

খেলা

‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করলে জিম্বাবুয়ে ছাড়া কোনো দেশ আমাদের সঙ্গে খেলবে না’ : সুজন

আইপিএল ও আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ডিসেম্বরে আইপিএলের মিনি নিলামে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বাংলাদেশ দলের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমান-কে দলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকি ও নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তুলে ধরে পরে তাকে আইপিএল থেকে বাদ দেয় Board of Control […]

নিউজ ডেস্ক

১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮:২৯

আইপিএল ও আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ডিসেম্বরে আইপিএলের মিনি নিলামে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বাংলাদেশ দলের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমান-কে দলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকি ও নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তুলে ধরে পরে তাকে আইপিএল থেকে বাদ দেয় Board of Control for Cricket in India।

এই ঘটনায় দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে—ভারত যদি একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পুরো বাংলাদেশ দল, টিম ম্যানেজমেন্ট, সাংবাদিক ও দর্শকদের নিরাপত্তা কীভাবে দেবে? বিষয়টি নিয়ে Bangladesh Cricket Board দুইবার International Cricket Council-এর কাছে চিঠি দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে গিয়ে খেলা নিরাপদ নয়।

তবে বিশ্বকাপ বয়কটের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। তিনি বলেন, বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে বাংলাদেশ বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। তার ভাষায়, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করলে জিম্বাবুয়ে ছাড়া আর কোনো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে খেলতে চাইবে না। তখন টিভি কাভারেজ ও আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাবে।”

সুজনের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে হলে আবেগ নয়, বাস্তবতা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।