সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূইয়া বলেছেন, গণহত্যার দায়ে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। তিনি মনে করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল।
সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার একটি অডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়।
সেখানে ভারতের সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ইকবাল করিম ভূইয়া বলেন, এই ঘটনা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করছে। তিনি বলেন, এটি বিজেপি সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপ, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়বে এবং ইতোমধ্যেই অবনতিশীল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে—যা কোনো দেশের জন্যই কল্যাণকর নয়।
তিনি আরও লেখেন, ভারত গত ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট দুঃশাসনের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে এবং শেখ হাসিনার প্রতি এখনও তাদের রাষ্ট্রীয় সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের অন্যায় ও পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের বিরোধের মূল কারণ হলো ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা, হত্যাযজ্ঞ এবং জাতীয় সম্পদ লুটপাটের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা। তিনি দাবি করেন, শীর্ষ পর্যায়ের বহু অপরাধী দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, যাদের একটি বড় অংশ প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিয়েছে। ভারত এ ধরনের আশ্রয়কে অবাধভাবে অনুমোদন দিয়েছে এবং এখনও দিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে আদালতের রায়ে নির্ধারিত শাস্তি কার্যকর হওয়ার পরই কেবল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। এর আগে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না।
ইকবাল করিম ভূইয়া অভিযোগ করেন, এ ক্ষেত্রে ভারত উল্টো ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, ভারত অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করছে, দোষীদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং বিচার প্রক্রিয়া এড়িয়ে এখনই অভিযুক্তদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
শেষে তিনি ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে বলেন, ৬৬ বছর আগে দালাই লামাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে ভারতের সঙ্গে গণচীনের যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তার মূল্য দেশটিকে এখনও দিতে হচ্ছে। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দেওয়ার ফলেও ভারতকে আরও বড় মূল্য দিতে হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।