ইসলামী বক্তা কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম একাত্তর প্রজন্মকে ‘নিকৃষ্টতম প্রজন্ম’ আখ্যা দিয়ে নতুন করে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “একাত্তর প্রজন্মের মতো খারাপ প্রজন্ম বাংলাদেশের ইতিহাসে নেই।
এদের নেতা মিথ্যুক, কর্মী মিথ্যুক, সমর্থক মিথ্যুক, এদের যুদ্ধ মিথ্যা, এদের স্বাধীনতা মিথ্যা—সবকিছুই মিথ্যা।” তার এই বক্তব্য ঘিরে নেট দুনিয়ায় চলছে তীব্র সমালোচনা ও আলোচনা।
ভিডিওতে ইব্রাহিম আরও দাবি করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ১৯৭১ সালে নয়, বরং ১৯৪৭ সালেই হয়েছিল। তিনি বলেন, “স্বাধীন হয়েছি ৪৭ সালের ১৪ আগস্ট। পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনে ৬০ ভাগ লড়াই করেছে বাংলাদেশিরা। শেখ মুজিব থেকে শুরু করে শেরে বাংলা ফজলুল হক—সবার ভূমিকা ছিল পাকিস্তান আন্দোলনে। তাহলে সেটা কি স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল না?”
তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ‘ভারতীয় চক্রান্ত’ এবং ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বৈধতা’ দাবি করে আরও বলেন, “পুরোটাই ভারত ও আওয়ামী লীগের খুনের ষড়যন্ত্র ছিল। পিলখানা বিদ্রোহের মতোই ৭১ ছিল একটি পরিকল্পিত অপারেশন।” তার বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করছে বিভিন্ন মহল, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।
এক পর্যায়ে কাজী ইব্রাহিম ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “যারা ভারতের বন্ধু, তারা বাংলাদেশের শত্রু। ড. ইউনূসসহ ভারত-ঘনিষ্ঠ সবাই দেশের জঘন্য শত্রু। বিচার করা হোক। কোনো ভারত বন্ধুকে বাংলাদেশে চেয়ারে বসানো যাবে না।” তার এই বক্তব্যও সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ইউটিউবে তার আরও কিছু ওয়াজে একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা। তারা মনে করছেন, এ ধরনের মন্তব্য তরুণদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে যায়।
কাজী ইব্রাহিমের এসব মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক আরও বিস্তৃত হচ্ছে, এবং সংশ্লিষ্ট মহল তার বক্তব্যের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের দাবিও তুলেছে।