ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার বাড়িতে ভোররাতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ভোরে এ হামলা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।
তিনি সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে জানান, রাফিয়ার বাসায় গান পাউডার ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা। একই সঙ্গে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ হামলার পেছনে শিক্ষাঙ্গনে নাশকতার জন্য কুখ্যাত ‘জঙ্গি লীগ’ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ভোরের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বের হয়ে আসে। পরে রাফিয়ার বাড়ির একাংশে আগুন দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায় এবং দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলে। তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ডাকসুর নেতারা বলছেন, ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রাখার কারণে রাফিয়াকে লক্ষ্য করে এই হামলা হতে পারে। তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষাঙ্গনে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে পরিকল্পিতভাবে নারী নেতাদের ওপর এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে।
রাফিয়ার পরিবার জানায়, ঘটনাস্থলে গান পাউডারের গন্ধ এবং ককটেলের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। পুলিশ সেগুলো আলামত হিসেবে সংগ্রহ করেছে। হামলাকারীদের শনাক্তে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ বলেছে, এটি নাশকতা কিনা বা কারা ঘটিয়েছে—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে নিরাপত্তার জন্য রাফিয়ার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ডাকসুর নেতারা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, নারী শিক্ষার্থী ও নেত্রীদের ওপর হামলা মেনে নেওয়া যায় না এবং দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। তারা আরও জানান, শিক্ষাঙ্গনে আতঙ্ক ছড়াতে বারবার এ ধরনের ঘটনাকে ‘হত্যাচেষ্টা’র পর্যায়ে গণ্য করা উচিত।