পাঁচ তারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ঢাকা–কে ঘিরে সম্প্রতি কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, তাকে চরম মিথ্যাচার, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার এবং সুনামহানির ঘৃণ্য প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।
একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বর্তমান সরকারের উপদেষ্টাসহ প্রাক্তন ছাত্র সমন্বয়করা দীর্ঘ সময় ধরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিনা খরচে অবস্থান করছেন এবং রুম ভাড়া ও খাবারের বিল পরিশোধ না করেই ১০টি কক্ষ দখল করে রেখেছেন, যার ফলে হোটেলটি ছয় মাসে ৫০০ কোটিরও বেশি টাকার লোকসানে পড়েছে।
এই চরম অসত্য তথ্যের বিরুদ্ধে রীতিমতো বিস্ফোরিত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কর্তৃপক্ষ। হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ভূঁঞা স্বাক্ষরিত এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানানো হয়, “এই ধরনের কোনো সুবিধা কোনো উপদেষ্টা কিংবা সমন্বয়ককে প্রদান করা হয়নি। এসব তথ্য পুরোপুরি ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট, যার মাধ্যমে হোটেলের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা করা হচ্ছে।”
হোটেল কর্তৃপক্ষ আরও বলেন, “সাংবাদিকতার প্রাথমিক নৈতিকতা হলো, যে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া। অথচ এসব ভুয়া সংবাদ প্রকাশে আমাদের কাছে কেউ একবারও কোনো বক্তব্য চায়নি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সাংবাদিকতা নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।”
হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এই মানহানিকর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছে— যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই ভিত্তিহীন সংবাদ ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন এমন কোনো মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশ না করা হয়।
রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে একটি সম্মানিত প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কে জড়ানোর যে অপচেষ্টা হয়েছে, তা শুধু ইন্টারকন্টিনেন্টালের সম্মানহানিই নয়, বরং গোটা প্রশাসনিক ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার সামিল—এমনটাই মত বিশ্লেষকদের।
হোটেল কর্তৃপক্ষের সাফ বার্তা—ইন্টারকন্টিনেন্টাল রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক অতিথিদের আতিথেয়তায় বিশ্বমানের নীতিমালা অনুসরণ করে চলে, সেখানে বিনা খরচে থাকার প্রশ্নই আসে না। কোনো কল্পকাহিনিকে সত্য রূপে চালিয়ে দেওয়ার এই চেষ্টা তাদের আইনি জবাবেই থেমে যাবে।