ভোটের আগে কেন্দ্র দখল ও ভুয়া ভোটার নিয়ে গুরুতর শঙ্কার কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। একটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্র ও লাঠি উদ্ধারের ঘটনায় সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ ব্যাহত হতে পারে উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র পরিবর্তনসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ইশরাক হোসেন। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে সূত্রাপুরের কাঠের পুল এলাকার কসমোপলিটন স্কুল কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১৫২ পিস মোটা লাঠি উদ্ধার করে। ওই ভবনটির মালিকানা প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘ওসি সাহেবকে জানানোর পর ৩-৪ ঘণ্টা সময় ক্ষেপণ করেন, যার ফলে সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ লাঠিসোঁটা সরিয়ে ফেলার সুযোগ তৈরি হয়। আমরা মনে করছি, এটি একটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি সহযোগিতার শামিল।’ তার অভিযোগ, এই বিলম্বের কারণে ঘটনার প্রকৃত মাত্রা আড়াল হয়ে গেছে এবং এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কসমোপলিটন স্কুল কেন্দ্রে অস্ত্র ও লাঠি মজুত থাকার তথ্য সামনে আসায় সেখানে সুষ্ঠু ভোট হওয়ার বিষয়ে গুরুতর শঙ্কা রয়েছে। সে কারণেই কেন্দ্রটি পরিবর্তনের আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে সূত্রাপুর থানার ওসিকে দ্রুত পরিবর্তনের দাবিও জানানো হয়েছে।
নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকা-৬ আসনে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও এই ধরনের ঘটনা ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করছে। তিনি দাবি করেন, অনেক হোল্ডিংয়ে একসঙ্গে ২০ জন করে অতিরিক্ত ভোটারের নাম দেখা যাচ্ছে, যাদের বড় একটি অংশ ভুয়া ভোটার। এসব তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে শিগগিরই নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হবে।
ব্যক্তিগত আক্রমণ ও মরহুম বাবাকে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক হোসেন বলেন, এসব সত্ত্বেও তিনি ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। তার ভাষায়, একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন দেশের জন্য কোনোভাবেই মঙ্গলজনক নয় এবং বিএনপি কোনো সংঘাত চায় না। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।