পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে বিএনপি ছেড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন দুই শতাধিক নেতাকর্মী। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের মিলবাড়ি এলাকায় আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যোগদান সম্পন্ন হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
যোগদানকারী নেতাকর্মীরা বলেন,
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারা একটি আদর্শিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমূলক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের অংশ হতে চান। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, দীর্ঘদিন ধরে তারা এমন একটি রাজনৈতিক শক্তির খোঁজ করছিলেন, যে শক্তি ক্ষমতা নয় বরং ইনসাফ, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে বলেই তারা এই দলে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উঠান বৈঠক শেষে যোগদানকারী নেতাকর্মীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন খাইরুজ্জামান আতিক এবং সভাপতিত্ব করেন আনোয়ার হোসেন মৃধা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নতুন করে শক্তি যোগাচ্ছে এই যোগদান। জনগণ রাজনীতিতে পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের পথেই জামায়াতে ইসলামী এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হক, ইন্দুরকানী উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আলী হোসেন এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সেক্রেটারি এস এম পারভেজসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাজনীতির বিকল্প নেই। তারা দাবি করেন, দুর্নীতি, অনিয়ম ও দমন-পীড়নের রাজনীতি থেকে মুক্তি পেতে জনগণ এখন ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে এবং জামায়াতে ইসলামী সেই আস্থার জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, ক্ষমতার পালাবদলের রাজনীতির বাইরে গিয়ে জনগণের নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এই দলের মূল লক্ষ্য। ইন্দুরকানীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের এই যোগদান সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন বলে তারা উল্লেখ করেন। স্থানীয়ভাবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা আসন্ন জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।