বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের দলীয় প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
জবানবন্দিতে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘আয়নাঘরে বন্দি থাকা অবস্থায় আমি খাবার দেখে দিন গুনতাম। সকালে রুটি এলে বুঝতাম নতুন দিনের শুরু হয়েছে। দুপুর ও রাতে ভাতের সঙ্গে এক পিস মাছ বা মুরগি দেওয়া হতো, সঙ্গে সবজি। এভাবে একটি পেরেক দিয়ে দেয়ালে দাগ কেটে দুই মাস পর্যন্ত দিনের হিসাব রাখতাম, পরে তা বন্ধ করে দিই।’
ঘটনার বর্ণনায় তিনি জানান, ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সিএমএম কোর্টে হাজিরা দিতে গাড়িযোগে বের হলে বংশাল থানার সামনে ট্রাফিক সিগন্যালে তার গাড়ি ৭–৮ জন সিভিল পোশাকধারী ব্যক্তি ঘিরে ফেলে। তিনি বলেন, ‘আমার মোবাইল ফোন ও ওয়ালেট মায়ের কাছে দিয়ে গাড়ি থেকে নামি। এরপর আমাকে প্রথমে বংশাল থানায় এবং পরে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।’
হুম্মাম কাদের আরও বলেন, ‘ডিবি কার্যালয় থেকে রাত ১১টার পর একটি ভাঙা মাইক্রোবাসে করে আমাকে নেওয়া হয়। গাড়িতে থাকা একজন কান্নাকাটি করছিল এবং আমার কাছে ক্ষমা চাইছিল। তখন আমি বুঝতে পারি, আমাকে হয়তো ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে।’ কিছুক্ষণ পর তাকে চোখ বেঁধে নেওয়া হয় বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, ‘মহাখালী ফ্লাইওভার হয়ে এয়ারপোর্ট সড়কের দিকে নেওয়া হয়। চোখ বাঁধা থাকলেও রাস্তার গতিপথ থেকে বুঝতে পারি কোথায় নেওয়া হচ্ছে। পরে একটি কাঁচা রাস্তায় অন্য একটি দলের কাছে আমাকে হস্তান্তর করা হয়। তারা চোখ বাঁধার ওপর যমটুপি পরিয়ে, হাতকড়া লাগিয়ে আমাকে আয়নাঘরে নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে টানা সাত মাস গুম করে রাখা হয়।’