মানিকগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমানকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পাশাপাশি মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে রোববার মানিকগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করা জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আতাউর রহমান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। ঘটনার পর তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। যাচাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমানের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পরপরই আতাউর রহমান আপত্তি জানান এবং আফরোজা খানমের বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও গ্যাস বিল সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, উপস্থিত কর্মকর্তারা, অন্যান্য প্রার্থী ও সমর্থকেরা সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন। এ সময় আতাউর রহমানকে জোরপূর্বক ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে জড়িত হিসেবে মানিকগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন যাদু, জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আরিফ হোসেন লিটন এবং জেলা প্রশাসকের এপিএস সোহেল রানার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, একটি মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবিধান স্বীকৃত প্রক্রিয়ায় একজন প্রার্থীকে এভাবে হেনস্তা করা নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও আইনের শাসনের পরিপন্থি। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।