বিএনপি সরকার গঠন করলে গণঅধিকার পরিষদকে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তিসহ সরকার পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গণঅধিকার পরিষদের ভূমিকা থাকবে—এমন প্রতিশ্রুতি বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নুরুল হক নুর। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির সঙ্গে তাদের যুগপৎ আন্দোলন চলছে এবং দেশের বিভিন্ন মৌলিক রাজনৈতিক প্রশ্নে দুই দলের অবস্থান প্রায় অভিন্ন।
নুরুল হক নুর বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল এবং তারা আগেই ঘোষণা দিয়েছিল—গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে সরকার গঠন করা হবে। সেই রাজনৈতিক ঘোষণার ধারাবাহিকতাতেই বর্তমানে দুই দল একসঙ্গে নির্বাচন ও সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, এই সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি দুটি আসনে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুর এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান-এর জন্য বিএনপি আসন ছেড়ে দিয়েছে।
নুর বলেন, বিএনপির মতো একটি বড় দলের পক্ষ থেকে এটি একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক পদক্ষেপ। একই সঙ্গে জাতীয় সরকারে গণঅধিকার পরিষদকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাখার বিষয়ে বিএনপির আশ্বাস তাদের আস্থা বাড়িয়েছে। এসব বিবেচনায় দলটি আপাতত বিএনপির সঙ্গেই যুগপৎভাবে নির্বাচন ও সরকার গঠনের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।
এর আগে গণঅধিকার পরিষদের নির্বাহী পরিষদ সভায় দুই আসনে সমঝোতা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, সর্বশেষ রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আলোচনার প্রেক্ষাপটে সে অবস্থান থেকে সরে এসেছে দলটি। নুরুল হক নুর বলেন, রাজনীতিতে স্থির থাকা যায় না; সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তিনি জানান, দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কিছু অপ্রাপ্তি মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।