এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, যারা শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে ‘গিনিপিগ’ বলে অবমাননা করেছে, তাদের এই প্রজন্ম ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে ফেনীতে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের উদ্যোগে আয়োজিত শোক ও সংহতি সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সমাবেশটি আয়োজন করা হয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি-কে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, যারা শহীদ হাদির নামটাও ঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে না, তারাই তাকে ‘গিনিপিগ’ বলার মতো নৈতিক দেউলিয়াপনার পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রজন্ম এসব বক্তব্য ভুলে যাবে না এবং সময় এলেই এর জবাব দেবে। তরুণ সমাজ এখন আর মিথ্যা ও বিকৃত বয়ান মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করে এনসিপি নেতা বলেন, নিয়ন্ত্রিত লটারির মাধ্যমে যাদের ডিসি-এসপি বানানো হয়েছে, তাদের অনেকেই একটি বিশেষ দলের দালালি শুরু করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো দলের পা চাটলে বেনজির-হারুনদের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে। প্রশাসন নিরপেক্ষ না থাকলে আবারও তরুণ প্রজন্ম রাজপথে নামবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
হাসনাত আরও বলেন, শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের এখনো দৃশ্যমান বিচার না হওয়া একটি ভয়ংকর অশনি সংকেত। এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং ন্যায়বিচার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে জনগণের আস্থা রাষ্ট্রের ওপর থেকে উঠে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফেনী জেলা এবি পার্টির আহ্বায়ক মাস্টার আহসানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের শীর্ষ নেতা ও মজিবুর রহমান মঞ্জু। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভুইয়া এবং এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার জোবায়ের আহমদ ভুঁইয়া। সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।