সরকারের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। একই সঙ্গে তিনি ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিরাপত্তার পরিবর্তে দেশের সর্বস্তরের মানুষের জন্য ন্যায়ভিত্তিক ও সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই বিপ্লবের ছাত্র নেতৃত্ব, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই ধারাবাহিকতায় তাকে ব্যক্তিগতভাবে গানম্যান প্রদানের বিষয়ে অবহিত করা হলেও তিনি তা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম লেখেন, ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান ও ন্যায়সঙ্গত পরিবর্তন আসবে। তবে বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার অভাব এবং বিভিন্ন দপ্তরে ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদের কারণে জননিরাপত্তা বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকরভাবে সক্রিয় করে সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা গেলে আজকের এই নিরাপত্তা সংকট তৈরি হতো না। বরং প্রশ্ন থেকে যায়—জনগণের সেই প্রত্যাশা এখনো কেন পূরণ হয়নি।
সাদিক কায়েম আরও উল্লেখ করেন, একদিকে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে, অন্যদিকে তাদের হাতেই শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মতো মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, অথচ হত্যাকারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই বাস্তবতায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান গ্রহণ করা তার কাছে নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।
ডাকসুর এই ভিপি বলেন, নিরাপত্তা সবার প্রয়োজন। কিন্তু তা যদি কেবল কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেটি ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না। দেশের আপামর মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন দেশের ছাত্র-জনতা এখনো অনিরাপদ বোধ করছে, তখন কেবল নিজের জন্য গানম্যান গ্রহণ করাকে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করেন না বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন সাদিক কায়েম।