লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এমন সংবর্ধনা জানানো হবে, যা অতীতে বাংলাদেশের কোনো নেতা পাননি—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, দীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফিরছেন এবং এই উপলক্ষ্যে দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের উদ্যোগে বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে গণতন্ত্র রক্ষায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অপরিহার্য’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করি যে, আমাদের নেতা দীর্ঘ ১৮ বছর নির্বাসনে থাকার পর ইনশাআল্লাহ আগামী ২৫ ডিসেম্বর আমাদের মাঝে উপস্থিত হবেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণার বিষয়।” তিনি আরও বলেন, “আসুন, আমরা সবাই মিলে তাকে এমন একটি সংবর্ধনা জানাই, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে অতীতে কোনো নেতা পাননি।”
তারেক রহমানের দেশে ফেরা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “একদিকে আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই আমরা সেই নিশ্চয়তার খবর পেয়েছি—তারেক রহমান, যিনি আমাদের সামনে পথ দেখাচ্ছেন, তিনি আমাদের মাঝে ফিরে আসছেন।”
তিনি বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। এতে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্ণেল জয়নুল আবেদিন, মুক্তিযোদ্ধা দলের অবসরপ্রাপ্ত নেতা মিজানুর রহমান, নজরুল ইসলাম, এমএ হালিম, এমএ হাকিম খান এবং জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের সদস্য সচিব কেএম কামরুজ্জামান নান্নুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।