আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১২৫টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বাকি আসনগুলো দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অন্য রাজনৈতিক দল, জোট এবং বিএনপি–জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থীদের জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছে। দলটি বলছে, রাজনৈতিক সংস্কারপন্থি এবং তৃণমূল যোগাযোগে শক্তিশালী বিদ্রোহীদেরকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।
বুধবার সকালে (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “প্রথম ধাপে আমরা ১২৫ জনকে মনোনয়ন দিচ্ছি। তবে দ্বিতীয় ধাপে বিএনপি ও জামায়াতের যেসব বিদ্রোহী প্রার্থী সংস্কারের পক্ষে—তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জামায়াতের বিদ্রোহীরাও মনোনয়ন পাবেন, যদি তারা রাজনৈতিক সংস্কারের সঙ্গে একমত হন। এছাড়া যেসব সম্ভাব্য প্রার্থী টাকার কাছে হেরে গেছেন কিন্তু জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন—সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে চান—এনসিপির দরজা তাদের জন্যও খোলা।”
দুই ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আহমেদ এনসিপির মনোনয়ন পাবেন কি না—এ প্রশ্নের উত্তরে নাসীরুদ্দীন বলেন, “তারা এখনো পদত্যাগ করেননি। পদত্যাগ করলে এ বিষয়ে উত্তর দেওয়া যাবে।”
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রথম ধাপের প্রার্থী তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
অন্য দলের বিদ্রোহীরা কতজন যোগাযোগ করছেন—এ প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন বলেন, “সংখ্যাটা এখনই বলা যাবে না। তবে অনেকেই যোগাযোগ করছেন। মাঠে আগুন জ্বলা কমে গেছে মানেই বোঝা যায়, যোগাযোগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”
নতুন দল হিসেবে এনসিপি নির্বাচনী মাঠে একটি উল্লেখযোগ্য বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। দলটির দাবি—যোগ্যতা, সততা, তৃণমূল গ্রহণযোগ্যতা এবং সংস্কার-পন্থি মনোভাবই মনোনয়ন বণ্টনের প্রধান মানদণ্ড।