ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১২৫টি আসনে দলীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার সকাল ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তালিকা ঘোষণা করা হয়। গত জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত এই নতুন দলটি প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে।
ঘোষিত তালিকায় দেশের প্রায় সব অঞ্চলের তরুণ, পেশাজীবী, শিক্ষিত ও নীতিনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। পঞ্চগড়-১ থেকে শুরু করে নরসিংদী-৪ পর্যন্ত বিভিন্ন আসনে মোট ১২৫ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, আইনজীবী, কবি ও প্রযুক্তিবিদসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। দলটির দাবি, পরিবারতন্ত্র ও রাজনৈতিক বংশগতি ভেঙে রাষ্ট্র সংস্কার–পন্থি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে আনা–ই তাদের মূল লক্ষ্য।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় জানিয়েছে, গত ৬ নভেম্বর মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হলে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। দলের প্রতি জনসমর্থন বিবেচনায় সময় বাড়িয়ে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ফরম বিক্রি করা হয়। এ সময়ে মোট ১,৪৮৪টি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়, যা নতুন দলের জন্য অভূতপূর্ব সাড়া বলে উল্লেখ করেছেন নেতারা।
তবে আসন বণ্টন নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়সহ তৃণমূলেও কিছু অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে যেসব আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, সেখানে তালিকা প্রকাশের পর ভিন্নমত দেখা গেছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা, মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি ও ‘রাষ্ট্র সংস্কার নীতির প্রতি আনুগত্য’—এই চার মানদণ্ডেই প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে।
এনসিপি জানিয়েছে, অবশিষ্ট আসনগুলোর প্রার্থী তালিকা পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হবে। দলটি আশা করছে, তরুণমুখী নেতৃত্ব ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতির ওপর ভর করে এবারের নির্বাচনে তারা একটি ‘উল্লেখযোগ্য বিকল্প শক্তি’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।