আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর প্রত্যাশা ক্রমেই বাড়ছে। জুলাই বিপ্লব–পরবর্তী ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটের মাঠে ফিরেছে দলটি। ফলে প্রার্থীদের প্রচারণায় সাধারণ ভোটারদের আগ্রহও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। জামায়াত নেতাদের দাবি, নারী, তরুণ ও শ্রমজীবীসহ নানা শ্রেণির ভোটার এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে প্রস্তুত।
দলীয় সূত্র বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিয়মিত গণসংযোগ করছেন এবং সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন বেসরকারি জরিপেও দেখা যাচ্ছে—জামায়াতের ভোট সমর্থন আগের তুলনায় তিনগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। নেতাদের মতে, ইসলামি ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে ভোটের হিসাব আরও পাল্টে যেতে পারে।
২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের অংশীদার ছিল জামায়াত। তবে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় দলটি ছিল কঠোর দমন-পীড়নের মুখে। শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি, হাজারো গ্রেপ্তার-নির্যাতন ও গুম–খুনের মধ্যেও দলটি টিকে ছিল। জুলাই বিপ্লবের পর অনুকূল পরিবেশ ফিরে পাওয়ায় আবার মাঠে নেমেছে তারা।
চার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয়কে আগামী জাতীয় নির্বাচনের ‘ইঙ্গিত’ হিসেবে দেখছেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তার মতে, তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে, এবার জাতীয় রাজনীতিতেও সেটির প্রতিফলন ঘটবে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জনগণ আগের সরকারগুলোর চেহারা দেখেছে। তারা দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়। সেই প্রত্যাশায় জামায়াতের প্রতি আস্থা বাড়ছে।
নারী ভোটারদের কাছেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত পৌঁছে দিতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে মহিলা বিভাগ। উঠান বৈঠক, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পসহ নানা উদ্যোগে নারীদের সাড়া মিলছে বলে জানিয়েছেন নেত্রীরা।
সব মিলিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভালো ফলাফলের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।