আদালত অবমাননার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালকে নিয়ে বিরূপ ও বিতর্কিত মন্তব্য করার পর ফজলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “ট্রাইব্যুনালকে নিয়ে যে বক্তব্য তিনি দিয়েছেন, তা শুধু আদালত অবমাননা নয়, রাষ্ট্রদ্রোহিতার পর্যায়ে পড়ে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
টক শোতে দেওয়া বক্তব্যের জেরে প্রসিকিউশন ২৬ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে। ২৩ নভেম্বর একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে শেখ হাসিনার রায় নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। ওই বিতর্কিত অংশটি ট্রাইব্যুনালের কাছে উপস্থাপন করা হলে আদালত ব্যাখ্যা চাইতে নির্দেশ দেন।
ট্রাইব্যুনাল আগামী ৮ ডিসেম্বর ফজলুর রহমানকে স্বশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি তার একাডেমিক সনদপত্র ও বার কাউন্সিলের সনদপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করতে বলা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তার মন্তব্য বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্রের মর্যাদা এবং আইনের শাসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়।
ট্রাইব্যুনালে আবেদনের সময় ফজলুর রহমান জানান, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং যদি কোনোভাবে আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়ে থাকে, তিনি তার জন্য অনুতপ্ত। তিনি আদালতের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাইব্যুনালের অবস্থান কঠোর হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমা প্রার্থনা বিষয়টিকে কিছুটা শিথিল করতে পারে। তবে ৮ ডিসেম্বরের শুনানিই নির্ধারণ করবে আদালত তার ক্ষমা গ্রহণ করবে কি না।
মামলাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা চলছে।