বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরছেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, রাজনৈতিক বাস্তবতা দ্রুত বদলাচ্ছে এবং খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তারেক রহমানের দেশে ফেরা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “দেশের মানুষ তারেক রহমানকে দেখতে চায়। তিনি দেশের ক্রান্তিকালে নেতৃত্বদানের জন্য প্রস্তুত। উপযুক্ত সময় এলেই তিনি দেশে ফিরবেন, এবং সেই সময় খুব বেশি দূরে নয়।”
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবনতিশীল শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ তিনি খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে বার্তা দেন।
মোদি তার বার্তায় লিখেছেন—
“বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খবরে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দীর্ঘদিন তিনি বাংলাদেশের জনগণের জন্য কাজ করেছেন। তার দ্রুত সুস্থতায় আমাদের আন্তরিক প্রার্থনা ও মঙ্গল কামনা।”
তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে ভারত খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যে কোনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
বেগম খালেদা জিয়া টানা চার দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। লিভার, কিডনি, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস—সহ দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা তার অবস্থাকে জটিল করে তুলেছে। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন—খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা মিলে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
নরেন্দ্র মোদির বার্তা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আঞ্চলিক অস্থিরতার সময় একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে বিএনপির শীর্ষ পর্যায় মনে করছে, খালেদা জিয়ার সংকটাপন্ন অবস্থায় তারেক রহমানের দেশে ফেরা আরও ত্বরান্বিত হবে, এবং বিএনপির নেতৃত্বে নতুন গতি সঞ্চার করবে।