আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনগণ যদি নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে, তবে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোই বিজয়ী হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী। তিনি বলেন, ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার জন্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্লোগান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দলগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং দৃঢ় সংগঠনভিত্তিক রাজনীতি।
শনিবার সকালে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর জামিয়া নুরিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা মাঠে দলটির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, “জমিন যার, হুকুমও তার। একাত্তরের পর সর্বজন শ্রদ্ধেয় বুজুর্গ মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এই ময়দানে এসে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন দেশের প্রাচীনতম ইসলামী সংগঠনগুলোর একটি।”
তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাফেজ্জী হুজুর বিপুল ভোট পেয়েছিলেন; কিন্তু তৎকালীন শাসকদের কারচুপির কারণে জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ২৪ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের অবসানে মানুষ এখন ইসলামি শাসনের স্বপ্ন নতুন করে দেখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি দল-মত নির্বিশেষে ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী দলগুলোর প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানান।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হক্কানী, জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহারসহ বিভিন্ন ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।
সকালে পতাকা উত্তোলন, শপথ গ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে প্রতিনিধি সম্মেলন ও মজলিসে শূরার অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলীয় ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও ইসলামী রাজনীতির রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়।