জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত আমির ডা. শফিকুর রহমান তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন শুক্রবার সন্ধ্যায়। রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। তবে দাওয়াত পেলেও অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি বিএনপির কোনো প্রতিনিধি—এ বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, শপথ অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের নামেই আনুষ্ঠানিক দাওয়াত পাঠানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিবের হাতে সরাসরি দাওয়াতপত্র পৌঁছে দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। তা সত্ত্বেও শুক্রবার সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে বিএনপির কেউ উপস্থিত হননি। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ অনুপস্থিতি বিষয়ে জামায়াতকে কোনো বার্তা বা ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে রাজনৈতিক ইসলামী ধারার প্রায় সব বড় দলের প্রতিনিধিরাই এ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী,
মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, জাগপা, এলডিপি, এনডিপি এবং গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতারা।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকেও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, কর্মপরিষদ ও মজলিসে শূরার সদস্যরা।
একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের শপথ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণ থাকলেও বিএনপির অনুপস্থিতি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্পর্কের ইঙ্গিতবাহী হতে পারে। বিশেষত আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এটি নতুন রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে বলেও মনে করছেন অনেকেই।