বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে জাতিকে বিভক্ত করতে চায় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল। যারা একসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, আজ তারা দেশের শাসনভার নিতে চায়— এটি জাতির জন্য এক ধরনের অপমান।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পল্টনে প্রয়াত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, “একটা শ্রেণী আবার আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনতে চায়। তারা ভেবে বসেছে, লীগের ভোট তারা পাবে। কিন্তু দেশের মানুষ এবার দেশপ্রেমিক নেতৃত্বকেই বেছে নেবে। জনগণ যাদের প্রয়োজন মনে করে না, তারা কেন এত বড় বড় কথা বলে বুঝি না।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালে যারা বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে, তারা কখনও দেশের নেতৃত্বের যোগ্য হতে পারে না। আজ তারা ধর্মের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। জাতিকে বিভক্ত করার এই অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে।”
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “দেশে এমন এক অবস্থা চলছে— মনে হয় এই দেশের কোনো মালিক নেই। বেকারত্ব বাড়ছে, মানুষ ফুটপাতে দোকান বসিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে, কিন্তু সরকারের কোনো নজর নেই। একটি শ্রেণী দেশটাকে লুটেপুটে খাচ্ছে, অথচ সরকার নীরব।”
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আজকের সরকার টিকে আছে একটি পুরনো দলের ওপর ভর করে। তাদের নিজস্ব কোনো শক্তি নেই। সেই দল যা বলবে, সরকার তাই করবে। যদি সত্যিকার অর্থে নির্বাচন হয়, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।”
মির্জা আব্বাস বলেন, “দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিএনপি জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।”