পৃথকভাবে গণভোট আয়োজনের ব্যয় নিয়ে বিএনপির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, “বিএনপির একজন নেতার চাঁদাবাজির টাকা দিয়েই পুরো দেশের গণভোট আয়োজন করা সম্ভব।”
শনিবার বিকেলে রাজধানীর পল্টনে আয়োজিত ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তরুণ আলেমদের ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। পাটওয়ারী বলেন, “বিএনপি এখন গণভোট নিয়ে বলছে এতে নাকি অনেক টাকা খরচ হবে।
অথচ এই গণঅভ্যুত্থানের পরে তাদের একজন নেতা যে চাঁদাবাজি করেছে, সেই টাকা দিয়েই একটি পূর্ণাঙ্গ গণভোট করা সম্ভব। জনগণের টাকা তারা লুট করেছে, এখন আবার ব্যয়ের অজুহাত তুলে গণভোট এড়াতে চায়।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিএনপির নেতারা রাষ্ট্রীয় কোষাগার খালি করেছেন। এখন সময় এসেছে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার।” তিনি উল্লেখ করেন, “ঢাকা মহানগরে এক নেতা আছেন—নয়ন। তিনি যে পরিমাণ দুর্নীতি করেছেন, শুধু সেই টাকা দিয়েই একটি গণভোট আয়োজন করা যায়।”
এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, পৃথক গণভোট আয়োজন করতে অতিরিক্ত এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এ মন্তব্যের জবাবে পাটওয়ারী বলেন, “যখন লুটপাটের টাকা হাজার কোটি টাকায় হিসাব হয় না, তখন গণভোটের ব্যয় নিয়ে কথা বলা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।”
বিএনপি-জামায়াত সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, “আমরা শুনছি, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একধরনের বোঝাপড়া হচ্ছে। বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থেকে সরে আসবে, আর জামায়াত নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি থেকে সরে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূস যদি জুলাই সনদের আদেশ জারি করতে পারেন, তাহলে তিনি জনগণের সরকারের পরিচয় প্রমাণ করতে পারবেন। এজন্য তাকে শহীদ মিনারে গিয়ে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই ঘোষণা দিতে হবে।”