বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি কড়া আক্ষেপ ও এক বার্তা দেন। তিনি বলেন,
“আমাদের বন্ধু মানুষ তাহের সাহেব— আমাদের দোষারোপ করেছেন যে, আমরা নাকি নির্বাচনকে বাধা দেবো। মানুষকে মিথ্যা কথা বলে প্রতারণা করবেন না।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সম্মিলিত অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, যে নীতিতে দলসমূহ সম্মত নয়, সেগুলো নোট অব ডিসেন্ট হিসেবে রেখে সুনির্দিষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করা হবে এবং বিএনপি সেগুলোর দায়-দায়িত্ব স্বীকার করবে না।
তিনি বিস্তারিতভাবে মন্তব্য করেন যে, বিএনপি কখনো রাস্তায় না নামে, কোনো ঘেরাও করে না এবং প্রধান উপদেষ্টার বাড়ি বা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করাও তাদের কার্যক্রমে নেই। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি জোট গঠন করে সরকারকে চাপ দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। ফখরুল আরও বলেন,
“আমরা যেটা সই করেছি, আমরা অবশ্যই সেটার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করবো। কিন্তু যেটা আমরা সই করিনি, সেটার দায়-দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করবো না।”
তিনি দাবি করেন যে, আলোচনার মাধ্যমে এসব জটিল বিষয় সমাধান করা সম্ভব এবং উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের নির্ধারিত সময়ই—২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি—নির্বাচন হওয়া উচিত।
গণভোট বিষয়ে তার বক্তব্য ছিল জোড়ালো ও বাস্তবসম্মত। তিনি বলেন,
“গণভোটের কথা বলেছে, আমরা রাজি হয়েছি, ঠিক আছে। প্রয়োজন ছিল না। একই দিন নির্বাচন ও গণভোট করা যায়—দুটি ব্যালট থাকবে; একটি গণভোটের জন্য, আর একটি সংসদীয় নির্বাচনের জন্য।”
ফখরুল যুক্তি দেন যে, আলাদা করে গণভোট করলে অতিরিক্ত বড় খরচ হবে এবং দেশের সম্পদর অপচয় হবে। এখানে তাঁর আহ্বান—অসঙ্গত সময় ও অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব নয়, বরং কার্যকর ও অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিহীন ব্যবস্থার পরিবর্তে একসঙ্গীন পদ্ধতি গ্রহণ করা।
জামায়াতকে বিশেষভাবে তিনি সাবধান করে বলেন, মিথ্যা অভিযোগ ও নির্বাচনী ব্যাঘাত সৃষ্টি না করতে। তিনি বলেন,
“আপনারা পিআরের দাবি নিয়ে এসেছেন, আলোচনায় ছিল না, প্রস্তাবেও ছিল না। জোট পাকিয়ে রাস্তার মধ্যে আন্দোলন করছেন এবং ধমক দিচ্ছেন—আজকেই হতে হবে, না হলে আমরা নির্বাচন হতে দেবো না। এটা তো মানুষকে বোকা বানানো।”
তিনি জামায়াতকে অনুরোধ করেন, অপপ্রচার করা থেকে বিরত থাকুন এবং দায়িত্বশীল আচরণ করুন।
শফিকুল আলমের মন্তব্যের পর দেশের সাধারণ জনগণের ওপর ফখরুলের কড়া বক্তব্য—তার ভাষ্যে, “আজ কাগজে দেখলাম, আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় বন্ধু মানুষ তাহের সাহেব আমাদের দোষারোপ করেছেন।” তবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, বিএনপি কখনো নির্বাচন বিলম্ব করবার পক্ষে নয়; বরং দ্রুত ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য। জনস্বার্থে তিনি ভারতের ভূমিকা নিয়েও সুনির্দিষ্ট আভাস দেন; বরাবরই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের স্বতন্ত্রতা বজায় রাখার আহ্বান রাখেন।
ফখরুল মামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘‘শেখ হাসিনাকে ভারতে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারকে আহ্বান করা উচিত—বাংলাদেশের আইনে যদি আদালত বিচারের আদেশ করে, তাহলে সে বিচারপ্রক্রিয়া চলুক।’’ একই সঙ্গে তিনি বললেন, দেশের মানুষের বিরোধিতা করবে না যে কোনো বিদেশী উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হবে না; দেশের আইনি প্রক্রিয়া ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বক্তৃতার সমাপনে তিনি একটি শক্ত শপথ নেন—দেশকে গণতন্ত্রমুখী, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে বিএনপি সব ধরনের ভূমিকা পালন করবে। তিনি জনসংহারের ওপর আলোকপাত করে বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এই মুহূর্তের প্রধান উদ্দেশ্য।