ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি প্রায় ২০০টি আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি হাইকমান্ড সহস্রাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর সঙ্গে মতবিনিময় করেছে এবং মাঠ পর্যায়ে প্রার্থীরা প্রচার–প্রসারে নেমেছেন।
বুধবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আসনভিত্তিক কৌশল, নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রার্থী যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। প্রথম ধাপে নির্বাচিত প্রার্থীদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যাদের কর্মকাণ্ড বা আনুগত্যে ঘাটতি দেখা যাবে, তাদের স্থলে বিকল্প প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র জানায়, প্রার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, সাবেক সংসদ সদস্য ও তরুণ নেতৃত্বের সংমিশ্রণ। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও কুমিল্লা বিভাগে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। এসব এলাকায় প্রার্থীরা গ্রামে–গ্রামে গিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।
বিএনপির এক শীর্ষ নেতা জানান, “আমরা ধাপে ধাপে প্রার্থী ঘোষণা করব। প্রত্যেক প্রার্থীর মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক অবস্থান ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি এবার আগের তুলনায় বেশ গোছানো ও বাস্তবধর্মী কৌশল গ্রহণ করেছে। একদিকে মাঠে কর্মীসংগঠন সক্রিয় করা, অন্যদিকে গণভোটের দাবিকে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত করে জনমনে ইতিবাচক ধারা তৈরির চেষ্টা করছে দলটি।
হাইকমান্ড সূত্রে আরও জানা গেছে, ডিসেম্বরের শুরুতেই প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। বিএনপি মনে করছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা বর্জন — দুই ক্ষেত্রেই সংগঠনকে সুশৃঙ্খলভাবে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।