বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় এবং এই দাবিকে উপেক্ষা করা যায় না। আগামী ১৫ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষরের আগে পিআর পদ্ধতির স্থাপন নিশ্চিত করার দাবি তুলে জামায়াত এই দাবি করেছে।
শুক্রবার জুমা নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে অনুষ্ঠিত গণমিছিলে এ কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি দাবি করেন, পিআর পদ্ধতির প্রতি মানুষের আস্থা আছে, এবং পিআর সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচারণা চলছে যাতে সাধারণ মানুষ বোঝে না এই পদ্ধতির গুরুত্ব।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার বিঘ্নিত করতে বিভিন্ন অপচেষ্টা চলছে। প্রশাসনকে একপক্ষীয়ভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে। এতে level playing field বিঘ্নিত হচ্ছে। যদি নির্বাচনে খেলাধুলার সুষ্ঠু মাটি না থাকে, তাহলে বিতর্কিত নির্বাচন হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল দ্রুত নির্বাচন চায় কিন্তু নির্বাচন প্রক্রিয়া সংস্কার করতে সহযোগিতা করছে না। “দলের চেয়ে দেশ বড়” বলে মুখে বলে, কিন্তু কাজে তা প্রকাশ পাচ্ছে না, এমন এক দল আছেই, তিনি মন্তব্য করেন।
গোলাম পরওয়ার ইতিমধ্যে বিভিন্ন সময়ে পিআর পদ্ধতির বৈধতা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। তিনি মনে করেন, পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের প্রভাবশক্তি, কালো অর্থ ও মনোনয়ন বানিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এবং সাধারণ মানুষের ভোট সর্বোচ্চ মূল্য পাবে।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন হলে দেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদ পুনরুজ্জীবিত হতে পারে।
সারাবাংলা
জামায়াত বলছে, তারা জনগণের রায়কে সম্মান করবে — যদি দিনান্তে জনগণ পিআর পদ্ধতির পক্ষে না যায়, তাহলে দল দাবি থেকে সরে আসবে।
বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পিআর পদ্ধতির দাবি একটি স্পর্শকাতর এবং চালিয়ে যাওয়া প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক দলগুলোর গ্রহণযোগ্যতা, আইন ও সংবিধানগত বাধা, এবং জনমত—all মিলিয়ে আগামী দিনে এই দাবি কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে, সেটি সময় দেবে উত্তর।