বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেছেন, “যদি কখনো জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসে, তবে মুসলমান হতে হলে তাদের কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিতে হবে।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত নিজেদের স্বার্থে ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করছে এবং বিদেশি শক্তিকে খুশি করতে দলীয় লোগো পর্যন্ত পরিবর্তন করেছে।
রোববার (৫ অক্টোবর) বিকেলে খুলনার তেরখাদা উপজেলা যুবদল আয়োজিত এক যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন তিনি। সোহেল বলেন, “জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে—এমন ভুল ধারণা তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু কোথায় লেখা আছে? ক্ষমতা পাওয়ার লোভে তারা এমন কোনো কাজ নেই, যা করতে পারে না। এভাবে চলতে থাকলে একদিন তারা হাফ প্যান্ট পরে ঘুরবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি কখনো ভিনদেশি শক্তির নির্দেশে চলে না। বিএনপি জনগণের দল, জনগণের স্বার্থেই রাজনীতি করে। যে ক্ষমতায় জনগণের ভোট নেই, যে ক্ষমতা বিদেশি নির্দেশে পরিচালিত হয়, সেই ক্ষমতার দরকার নেই।” তিনি দাবি করেন, বিএনপি সব সময় জনগণের সঙ্গে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেন, “তেরখাদার উন্নয়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তেরখাদার রাস্তা-ঘাট সংস্কার, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, এবং বিল বাশুয়াখালী ও ভূতিয়ার বিল এলাকার পুনর্গঠন করা হবে।”
হেলাল আরও জানান, বর্তমানে তেরখাদার শিক্ষার হার ৬৫ শতাংশ, যা বৃদ্ধি এবং যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই পরবর্তী বিএনপি সরকারের অগ্রাধিকার হবে। তারেক রহমানের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিএনপি সরকারে এলে এক বছরের মধ্যে ১ কোটি যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।”
সমাবেশে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এবাদুল হক রুবায়েদ ও সদস্য সচিব নাজিমুজ্জামান জনি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী কাউসার আলী, এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রুনুসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।