জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) অভিযোগ করেছে, পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার নির্দেশে তাদের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের ওপর হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে গুলশানে ববি হাজ্জাজের বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযোগ জানায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনডিএম মহাসচিব মোমিনুল আমিন।
তিনি বলেন, শনিবার সকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগরের সহ-সভাপতি মোস্তফা আল নাফিসের নির্দেশে মো. নূর (২৫) নামে এক কর্মী ববি হাজ্জাজের গুলশান বাসভবনে প্রবেশ করে। সন্দেহজনকভাবে ধরা পড়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নূর স্বীকার করে, হাজ্জাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং বোমা হামলার পরিকল্পনায় সে এসেছিল। উপস্থিত দেহরক্ষীরা তার মোবাইল পরীক্ষা করে প্রাথমিক সত্যতা পায়। পরে গুলশান থানা পুলিশ নূরকে আটক করে নিয়ে যায়।
এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থা মারফত জানা গেছে, বনানীতে অবস্থিত এনডিএম কার্যালয়ে বোমা সদৃশ বস্তু রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে বনানী থানা পুলিশ কার্যালয় ঘিরে পরীক্ষা করে এবং নজরদারিতে রাখে। মোমিনুল আমিন বলেন, এই ঘটনা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের প্রমাণ বহন করছে।
এনডিএম মহাসচিব আরও বলেন, ববি হাজ্জাজ শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর যোদ্ধাই নন, তিনি শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সাহসী কণ্ঠস্বর। ২০১৩ সালে বিনাভোট নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাকে র্যাব গুম করার চেষ্টা করেছিল এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক লন্ডনে পাঠানো হয়। জুলাই আন্দোলনের সময়ও তিনি পুলিশের গুলিতে আহত হন এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পালানোর পর আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন। তার প্রচেষ্টাতেই শেখ হাসিনার আত্মীয় টিউলিপ সিদ্দিকের দুর্নীতি বিশ্বে উন্মোচিত হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে গণহত্যার আসামি হিসেবে চিহ্নিত করায় এবং প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর জোরালো করায় ববি হাজ্জাজকে হত্যা করতে চেয়েছিল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ। তিনি বলেন, “ববি হাজ্জাজকে হত্যার চেষ্টা মানে জুলাই আন্দোলনের ওপর সরাসরি আঘাত।”
মোমিনুল আমিন বিএনপিসহ আন্দোলনরত সব রাজনৈতিক শক্তিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নির্বাচন ঘোলা করার যেকোনো প্রচেষ্টা আসলে আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র। একবার যদি তারা ফিরে আসে, কেউ রক্ষা পাবে না।”