রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে স্থানীয় ছাত্র-জনতা। আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে জাপা চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের জন্য সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামও দিয়েছে তারা।
শনিবার বিকেল ৫টায় উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ৩৩ নম্বর রোডে অবস্থিত জিএম কাদেরের বাসভবনের সামনে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার কুশপুত্তলিকা দাহ করে। এ সময় তারা স্লোগান দেন—
“এক দুই তিন চার, কাদের হবে গ্রেফতার”, “জাপারে কবর দে”, “নূরের ওপর হামলা কেন- আসিফ নজরুল জবাব দে”, “আওয়ামী লীগের দোসরেরা হুশিয়ার সাবধান”, “আপা গেছে যে পথে, জাপা যাবে সেই পথে”।
শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জিএম কাদেরের বাসভবন ঘিরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি উত্তরা জোনের সহকারী কমিশনার সাদ্দাম হোসাইন এবং উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি আব্দুর রহমান মোল্লা। তবে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকায় তারা এ বিষয়ে গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বাসভবনের সামনে থেকে সরে গিয়ে বিএনএস সেন্টারের সামনে অবস্থান নেয় এবং জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ ও জিএম কাদেরকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানায়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তুরাগ থানা কমিটির সাবেক আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ বলেন, “জিএম কাদের গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে কাজ করেছে। সে একজন ভারতীয় দালাল, সবাই জানে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের বি টিম হয়ে কাজ করছে। এই দোসরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তি দিতে হবে।”
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রাজু আহম্মেদ আসিফ বলেন, “আমরা দেখছি, একটি পক্ষ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। এর নেতৃত্বে জিএম কাদের রয়েছে। নূর ভাই ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা তার প্রমাণ। হামলাকারীদের বিচার করতে হবে এবং জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করতে হবে।”
শিল্পী শিবলী হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অংশীদার নূর ভাইয়ের ওপর হামলার পরও কথিত সুশীলরা চুপ রয়েছে। এরা আসলে জুলাই গণহত্যার দল আওয়ামী লীগকে ফেরাতে চায়। আমরা বেঁচে থাকতে তা হতে দেব না।”
আরেক শিক্ষার্থী নোমান রেজা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
“আমরা নুর ভাইয়ের ওপর হামলাকারীদের আইনের আওতায় দেখতে চাই। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে উত্তরার ছাত্র-জনতা কঠোর পদক্ষেপ নেবে।”
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই রেভুলেশন অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক সালেহ মাহমুদ রায়হান, মুখপাত্র ফান্তাসির মাহমুদ, রাজু, সরদার রিয়াদ, শিবলী হাওলাদার, ইকবাল হোসাইনসহ শতাধিক শিক্ষার্থী।