বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার রায় আবারও পিছিয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতে রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু রায় প্রস্তুত না থাকায় বিচারক মুহা. আবু তাহের নতুন তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ঠিক করেন বলে জানান দুদকের কৌঁসুলি আহমেদ আলী সালাম।
রায় শুনতে আদালতে হাজির হয়েছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তবে দিন পরিবর্তনের খবর শোনার পর তিনি চলে যান। তার আইনজীবী সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, দুদক ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৯ আগস্ট আদালত রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ৫ জানুয়ারি রমনা থানায় দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম মামলা দায়ের করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, গয়েশ্বর তার সম্পদের বিবরণীতে দুটি বাড়ি দেখান—ঢাকার রায়েরবাজারে ছয়তলা ভবনের নির্মাণ ব্যয় ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং কেরাণীগঞ্জে পৈত্রিক জমিতে নির্মিত বাড়ির খরচ ১৫ লাখ ৪ হাজার টাকা। অথচ গণপূর্ত বিভাগের হিসাবে এই খরচ ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৫ টাকা বেশি ধরা হয়, যা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করে দুদক।
এছাড়া তার বাড়িতে ব্যবহার্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী বাবদ পাওয়া যায় ৫৮ হাজার ৬০০ টাকা, যা ঘোষণায় উল্লেখ ছিল না। মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০০৪-২০০৫ সালে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব কাজে লাগিয়ে গয়েশ্বর আব্দুল মোনেম লিমিটেড ও রেজা কন্সট্রাকশনের কাছ থেকে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। ফলে তার মোট অবৈধ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৮৬ লাখ ৯৫ হাজার ১০৫ টাকা।
তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ জুলাই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। আর ২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ এ বিচার প্রক্রিয়ায় ৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৯ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।