বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ কড়া ভাষায় অভিযোগ করে বলেছেন,
“জামায়াতে ইসলামীর একটি অংশ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অবস্থানকে আড়াল করতে এখন মুক্তিযুদ্ধে জনগণের আত্মত্যাগ ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।” একইসাথে তিনি দাবি করেন, “নির্বাচন বিলম্ব করতে এবং দেশের রাজনৈতিক গতিপথকে বিভ্রান্ত করতে জামায়াত এখন ‘পিআর পদ্ধতির’ মতো বিভ্রান্তিকর বুলি ছড়াচ্ছে।”
শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত
“গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি: দ্রুত বিচার সম্পন্ন, মৌলিক সংস্কার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন”
শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মেজর হাফিজ বলেন,
“এই দেশের সাধারণ মানুষ ‘পিআর পদ্ধতি’ বোঝে না। জনগণ চায় অবিলম্বে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন—বিদ্যমান ব্যবস্থাতেই।”
তিনি বলেন,
“জামায়াতের এমন সব বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে সাধারণ মানুষ হতবাক। জনগণের ভোটাধিকার হরণকারীদের মুখে গণতন্ত্রের বুলি নেহায়েত প্রহসন।”
তিনি আরও বলেন,
“বিগত এক বছরেও পুলিশের মধ্যে কোনো ন্যূনতম সংস্কার আনা হয়নি। বরং গত এক দশক ধরে এই বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। এখন এই পুলিশ বাহিনীর হাতেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব কি না, তা নিয়ে জনগণের মাঝে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বিরাজ করছে।”
মেজর হাফিজ সরাসরি আঙুল তোলেন ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার দিকেও। তিনি বলেন,
“শেখ হাসিনা এখনো ভারতে বসে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। নির্বাচন সামনে রেখে ভারতীয় মদদে ভিন্ন ভিন্ন কূটচাল দিয়ে আবারো দেশে সহিংসতা তৈরির ছক কষছে আওয়ামী লীগ।”
তিনি সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শেখ হাসিনা এবং তার দোসররা যে কোনো উপায়ে দেশে নৈরাজ্য ছড়িয়ে আবারও দমন-পীড়নের পথ নিতে চায়—এটা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট।”
বিএনপির এই প্রবীণ নেতা বলেন,
“গণঅভ্যুত্থানের বছরপূর্তিতে আমাদের শপথ নিতে হবে—দ্রুত বিচার, মৌলিক সংস্কার, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ-প্রশাসনের দন্তহীন অবস্থার অবসান না ঘটলে নির্বাচন অর্থহীন হয়ে উঠবে। আগামী নির্বাচনই হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারক—এখন সময় রাজপথে সঠিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার।”