গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, “নির্বাচন, পরিবর্তন কিংবা সংস্কারের প্রশ্নে নিজেদের ব্যর্থতা ও ভাঁওতাবাজি আড়াল করতেই সরকার এখন ‘রাখালের গল্প’ বলছে—এক-এগারোর বাঘ আসছে… বাঘ আইছে…” সোমবার (৪ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নুর বলেন, “যেভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তা শুধু রাজনৈতিক দায়িত্বহীনতা নয়—বরং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, সত্যিকারের বাঘ এসে গেলেও এখন আর পাশে কাউকে পাওয়া যাবে না। সময় বরই নিষ্ঠুর।”
এই বক্তব্যে নুর সরাসরি ইঙ্গিত করেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের দিকে, যিনি এর আগে মন্তব্য করেছিলেন—‘আবারও এক-এগারোর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।’ মাহফুজের ওই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দেয়। তবে নুরুল হকের বক্তব্যে সেই শঙ্কাকে বিভ্রান্তিমূলক বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়।
নুর আরও বলেন, “একদিকে জনগণের আন্দোলন, অন্যদিকে নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে ‘তৃতীয় পক্ষ’ বা সেনা হস্তক্ষেপের আভাস—এ ধরনের কৌশল জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। কিন্তু ইতিহাস বলে, বারবার যারা জনগণকে ভয় দেখিয়েছে, তারাই একসময় ইতিহাসের পাতায় নামতে বাধ্য হয়েছে।”
তিনি বলেন, “এই সময় জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে যদি আবারও কেউ ‘বাঘ’ ডেকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়, তাহলে তার পরিণতি আগের চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে।”
নুরুল হকের এই বক্তব্য এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক রূপরেখায় এই ‘বাঘ’ প্রসঙ্গ কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষও।