বাহাত্তরের সংবিধান বাতিল করে একটি নতুন জাতীয় সংবিধান গঠনের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক ছাত্র সমাবেশে তিনি এই দাবি জানান।
সারজিস আলম বলেন, “বাহাত্তরের সংবিধান একটি দলের তৈরি। এটি আরেকটি দেশ থেকে অনুলিপি করে এনে বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এটি কোনো জাতীয় দলিল নয়। আমরা আজ এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই মুজিববাদী সংবিধান চুরমার করে নতুন সংবিধানের দাবি জানাতে এসেছি।”
তিনি আরও বলেন, “২৩ বছর পাকিস্তানের অধীনে থেকেও অধিকার পাইনি। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও আমরা বঞ্চিত। আজও সেই একই শাসনব্যবস্থায় জনগণ নিপীড়িত। এক বছর আগে এই শহীদ মিনার থেকেই হাসিনা সরকারের পতনের ডাক এসেছিল। কিন্তু আজো সেই রক্তের মূল্য জাতি পায়নি।”
সারজিস জানান, এক বছর আগের সেই আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক তরুণ এখন শহীদ। তাদের পরিবার এই সমাবেশে উপস্থিত রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা শুধু বক্তৃতা দিতে আসিনি, শহীদদের রক্তের জবাব চাইতে এসেছি। সরকারকে বলতে এসেছি—শহীদ পরিবার ও আহতদের পূর্ণ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই লড়াই ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে নয়। এটা বাংলাদেশের কাঠামোগত পরিবর্তনের লড়াই। বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই আমরা।”
সারজিস আলম সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “এই দেশে জঙ্গিবাদ যেমন বরদাস্ত করা যাবে না, তেমনি রাষ্ট্রীয়ভাবে সাজানো জঙ্গি নাটকও আর মানুষ মেনে নেবে না। আর সিভিল সোসাইটির নামে যারা দালালি করছে—তাদের সময় শেষ।”
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এনসিপি নেতৃত্ব স্পষ্ট করেছে, তারা শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামো বদলের আন্দোলনে নামতে প্রস্তুত।