বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একজন মায়ের চোখে যেমন বাংলাদেশ হওয়া উচিত, তেমন একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, দেশে যেন আর কোনো দিন ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ বা চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেই জন্য বিশেষ করে নারীসমাজকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। এজন্য তিনি সমগ্র বাংলাদেশের মা-বোনদের প্রতি আহ্বান জানান।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নারীর অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন,
“আসুন, নারী-পুরুষ-শিশু, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার জন্য শহীদদের কাঙ্ক্ষিত একটি ইনসাফভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাই। সবার জন্য মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চলমান অভিযাত্রায় অতীতের মতো আগামী দিনেও আমরা আমাদের মা-বোনদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন আশা করি।”
তারেক রহমান বলেন,
“বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অনেক মা তাদের প্রিয় সন্তান হারিয়েছেন। আমার মা-ও (বেগম খালেদা জিয়া) তাঁর এক সন্তানকে (আরাফাত রহমান কোকো) হারিয়েছেন আপনাদেরই মতো। আজ শহীদ আর স্বজন হারানো মা-বোনদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অবশেষে একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ সামনে এসেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী দিনে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও ঘোষণা দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রান্তিক পর্যায়ের ৫০ লাখ পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যাতে প্রতি মাসে আর্থিক বা খাদ্যসহায়তা প্রদান করা যায়। তিনি বলেন,
“এটি একদিকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ঘটাবে, অন্যদিকে পরিবারগুলোর স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।”
তারেক রহমান সভায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নারী উন্নয়নমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন,
“বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের অর্ধেকসংখ্যক নারীকে রাষ্ট্র ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে কখনোই নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়। নারীশক্তিকে প্রাধান্য দিয়েই বিএনপি সব কর্মপরিকল্পনা সাজিয়েছে।”
তিনি নারীর শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতাকে বৈষম্য রোধ ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।
আলোচনা সভায় জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস স্বাগত বক্তব্য দেন। সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম, তাহসিনা রুশদীর লুনা, শিরিন সুলতানা, অধ্যাপক শামীমা সুলতানা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নারীদের অবদান নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা দেওয়া হয়।