ক্ষমতা হারানোর পরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ। তবে এই প্ল্যাটফর্মকে ঘিরেই দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ-এইটটিন’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, টেলিগ্রাম গ্রুপে মিটিংয়ের সুযোগ পেতে কিংবা শেখ হাসিনার সামনে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দলটির সাবেক এমপি ও মন্ত্রীদের থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কোনো বৈঠকে কারা কথা বলবেন, কাকে সুযোগ দেওয়া হবে—সেটাও নির্ধারিত হচ্ছে টাকার বিনিময়ে। এমনকি গ্রুপভিত্তিক অননুমোদিত ফোরাম তৈরি করে সেখানে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনকে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে নেতাকর্মীরা গ্রেফতারের ঝুঁকিতে পড়ছেন।
নিউজ এইটটিন আরও জানায়, কিছু টেলিগ্রাম গ্রুপে ২০-৩০ হাজার সদস্য রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে সাবেক এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা, এমনকি দলপ্রধান শেখ হাসিনাও থাকেন বলে জানানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটির তথ্যমতে, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা এই অবস্থা দেখে বিস্মিত। তারা বলছেন, ওবায়দুল কাদের টেলিগ্রামকে নিজের রাজনীতির প্রধান প্ল্যাটফর্ম বানিয়েছেন, কিন্তু তাঁর বক্তব্যে কোনো বাস্তব রোডম্যাপ নেই। বরং এসব গ্রুপ আর্থিক প্রতারণার ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।
শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ার করে বলেছেন—“হয় রাজপথে নামুন, নয়তো পদত্যাগ করুন।” এ অবস্থায় দলটি জেলা ও মহানগর পর্যায়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।
নিউজ এইটটিন বলছে, দলীয় গ্রুপগুলোতে তথ্য ফাঁস, ডার্ক ওয়েবে তথ্য চলে যাওয়া এবং ইউনূসপন্থি গোয়েন্দাদের প্রবেশ—সব মিলিয়ে আ.লীগের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।