আওয়ামী লীগের মিত্র জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, এই দলগুলোর নিবন্ধন স্থগিত করা এখন সরকারের দায়িত্ব।
সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে নির্বাচন কমিশনে ২০২৪ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান জানান, “আমরা আগেই চিঠি দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) অনুরোধ করেছিলাম যেন জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়। কিন্তু সিইসি জানিয়েছেন, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কিছুই করার নেই, যতক্ষণ না সরকার তাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তখনই কেবল ইসি ব্যবস্থা নিতে পারবে।”
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলেও এর সহযোগী দলগুলোকে অক্ষত রাখার সমালোচনা করে গণ অধিকার পরিষদের এই নেতা বলেন, “জাতীয় পার্টির তো আওয়ামী লীগের প্রতি মায়া-মহব্বত আছে। তাই এদের নিবন্ধন স্থগিত করাও সমান জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনটি নির্বাচন জাতির জন্য লজ্জাজনক অধ্যায় হয়ে আছে। আমরা চাই, আগামী নির্বাচনে যেন আওয়ামী লীগের কেউ স্বতন্ত্র পরিচয়ে অংশ নিতে না পারে। সিইসি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন—যারা দলের পদে ছিল, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।”
এই প্রসঙ্গে দলটির ২০২৪ সালের হিসাব তুলে ধরে রাশেদ খান জানান, গণ অধিকার পরিষদের আয় হয়েছে ৪৬ লাখ ৪ হাজার ৩০০ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৮৮ টাকা। ফলে দলটির হাতে উদ্বৃত্ত আছে মাত্র ১৩ হাজার ২১২ টাকা।
সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দ্বৈত ভূমিকার সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে দ্বিমুখী নীতির অবসান ঘটাতে হবে। সব দলের জন্য সমান আইন প্রয়োগ করাই এখন সময়ের দাবি।”
এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—সরকারের ভূমিকা কি নিরপেক্ষ, নাকি ক্ষমতাসীনদের স্বার্থেই বেছে বেছে পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন।