বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কণ্ঠে জাতির ক্ষত থেকে মুক্তির একধরনের স্বস্তি। সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের গ্রেপ্তারকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেছেন,
‘আজ আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।’ কারণ, ফখরুলের ভাষায়—এই ব্যক্তি বিচারপতির আসনে বসে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের পথ রচনা করেছেন।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বৃহস্পতিবার ফখরুল বলেন, “খায়রুল হক বাংলাদেশের বড় শত্রুদের একজন। তিনি দায়িত্বে থেকে দেশের বড় ক্ষতি করেছেন।” তাঁর বিরুদ্ধে শুধু রাজনৈতিক নয়, রাষ্ট্রীয় বিশ্বাসঘাতকতারও অভিযোগ এনেছেন তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে খায়রুল হকের রায়কে ‘প্রতারণামূলক’ এবং ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে ফখরুল বলেন,
“সংক্ষিপ্ত রায় ও পূর্ণাঙ্গ রায়ের মাঝে বিস্তর ফারাক। এই ফারাকটিই ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জনগণকে ধোঁকা দিতে এমন রায় কেউ একজন প্রধান বিচারপতি হয়ে কিভাবে দিতে পারেন?”
বিচারবিভাগকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন,
“এই বিচারপতির কারণে আজ বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা তলানিতে এসে ঠেকেছে। বিচারব্যবস্থা হচ্ছে মানুষের শেষ ভরসাস্থল। কিন্তু খায়রুল হক তা দলীয় সুবিধার জন্য ধ্বংস করেছেন।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার জন্য ফখরুল সরাসরি খায়রুল হককে দায়ী করেন। বলেন,
“এই সংকটের মূল নায়ক তিনিই। তাঁর রায়ই আজকের স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি।”
তবে শাস্তির ব্যাপারে ফখরুল কৌশলী। বললেন,
“আমি বিচারক নই। তবে আমরা চাই, তদন্ত হোক এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগে তার বিচার হোক। এমন শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে কেউ আর বিচারপতির আসনে বসে রাষ্ট্রের ক্ষতি করার সাহস না পায়।”
একটি রাষ্ট্র যদি বিচারালয়ের উচ্চ আসনকে বিশ্বাসঘাতকতায় কলুষিত করে, তাহলে তার ভবিষ্যৎ হয় প্রশ্নবিদ্ধ। খায়রুল হকের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে যেন ইতিহাসের সেই কলঙ্ক মোচনের সূচনা হলো—এটাই বিএনপি মহাসচিবের ইঙ্গিত।